এক ছবিতে তিন দেশ: ট্রাম্পের কল্পনায় বদলে গেলো বিশ্ব মানচিত্র
ওয়াশিংটন — একটি ছবিই যেন নতুন করে উসকে দিল বৈশ্বিক বিতর্ক। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শেয়ার করা একটি মানচিত্রে একসঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে তিনটি আলাদা ভূখণ্ড। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ছবিকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক আলোচনা, সমালোচনা ও কৌতূহল।
কী আছে সেই ছবিতে
ছবিটিতে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড ও কানাডার কিছু অংশকে একত্রে দেখানো হয়েছে—একটি একক ভূখণ্ডের মতো করে। বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এই মানচিত্রে কোনো আন্তর্জাতিক সীমারেখা স্পষ্ট নয়, যা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর ও বিতর্কিত বলে মনে হয়েছে।
ট্রাম্পের বক্তব্য ও ইঙ্গিত
ছবিটির সঙ্গে দেওয়া মন্তব্যে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্থিতিশীলতার স্বার্থে উত্তরাঞ্চলীয় অঞ্চলগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। যদিও তিনি সরাসরি দখল বা সংযুক্তির কথা বলেননি, তবুও তার আগের গ্রিনল্যান্ড-সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে এই ছবি নতুন করে সন্দেহ তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ডেনমার্ক ও কানাডার রাজনীতিকরা ছবিটিকে ‘বাস্তবতাবিবর্জিত কল্পনা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ইউরোপীয় কূটনৈতিক মহলে একে রাজনৈতিক প্ররোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এটি বাস্তব কোনো নীতিপ্রস্তাব নয়; বরং রাজনৈতিক বার্তা ও জনমত প্রভাবিত করার একটি কৌশল। ট্রাম্প বরাবরই প্রতীকী ভাষা ও দৃশ্য ব্যবহার করে আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে পছন্দ করেন, এই ছবিও তারই একটি উদাহরণ বলে মনে করছেন তারা।
রাজনৈতিক প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ছবিটি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, এমন কল্পনাচিত্র বৈশ্বিক সম্পর্ককে জটিল করে তুলতে পারে, আর সমর্থকদের দাবি—এটি কেবল শক্তিশালী অবস্থান জানান দেওয়ার একটি ভিজ্যুয়াল বার্তা।
উপসংহার
একটি ছবিতে তিন দেশের উপস্থিতি বাস্তবে সম্ভব না হলেও, ট্রাম্পের কল্পনায় আঁকা এই মানচিত্র বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এটি নীতিগত ইঙ্গিত, রাজনৈতিক কৌশল নাকি নিছক বিতর্ক উসকে দেওয়ার চেষ্টা—তা নিয়েই এখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে।
