চাঁদাবাজি রুখতে ব্যবসায়ীদের পাশে থাকব : এনসিপি নেতা আদীব

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৮ আসনে রাজনৈতিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ও ন্যাশনাল কনসারভেটিভ পার্টির (এনসিপি) নেতা আরিফুল ইসলাম আদীব। তিনি বলেন, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যবসায়ী সমাজের পাশে থাকবে তাঁর জোট।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) নির্বাচনী প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন আদীব। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে চাঁদাবাজি ও জুলুমমুক্ত সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

পথসভায় বক্তব্যে আদীব বলেন, ঢাকা-১৮ এলাকায় বিভিন্ন সময় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে রাজনৈতিক পরিচয়ে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। তাঁর মতে, এই প্রবণতা শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি করছে না, বরং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকেও দুর্বল করছে।

তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, “নতুন বাংলাদেশ গড়তে আপনাদের পাশে সর্বদা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ প্রস্তুত আছে। সব ধরনের জোর-জুলুমের বিরুদ্ধে আমরা অবস্থান নেব এবং ইনসাফভিত্তিক ঢাকা-১৮ গড়ে তুলব।” তাঁর বক্তব্যে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া দেখা যায় বলে জানান উপস্থিত নেতাকর্মীরা।

ভোটাধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আদীব বলেন, জনগণের প্রত্যেকটি ভোট সুরক্ষিত রাখা হবে। তাঁর দাবি, ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে রায় প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করাই তাঁদের লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, কেউ যদি ভোটারদের শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে বাধা দেয়, তাহলে জোটের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নির্বাচনী সহিংসতা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেন।

উত্তরার নাগরিক সমস্যার চিত্র

উত্তরার দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যা তুলে ধরে আদীব বলেন, বৃহত্তর উত্তরায় তীব্র যানজট একটি নিয়মিত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি, উত্তরার অনেক এলাকা প্রায় এক দশক আগে সিটি কর্পোরেশনের আওতায় এলেও এখনো প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।

তার মতে, অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত না হলে এই এলাকার জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন সম্ভব নয়। নির্বাচিত হলে এসব অব্যবস্থাপনা দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

মাঠপর্যায়ে জোটের সক্রিয়তা

নির্বাচনী প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে আদীবের সমর্থনে উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ চালায় ১০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিসসহ জোটভুক্ত দলগুলোর কর্মীরা এতে অংশ নেন।

দুপুরে জুমার নামাজের পর উত্তরার আজমপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এলাকায় প্রার্থী নিজে উপস্থিত থেকে শাপলা কলি প্রতীকের লিফলেট বিতরণ করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তিনি তাঁদের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শোনেন।

স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা-১৮ আসনে ব্যবসায়ী ও মধ্যবিত্ত ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ফলে চাঁদাবাজি ও নাগরিক সেবা ইস্যু সামনে এনে মাঠপর্যায়ে প্রচারণা চালানো নির্বাচনী কৌশল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ভোটের মাঠে আদীবের এই বার্তা কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে ভোটারদের আস্থা ও নির্বাচনী পরিবেশের ওপর। তবে চাঁদাবাজিমুক্ত এলাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি স্থানীয় আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

Source: Based on reporting from Dhaka Post.

Next Post Previous Post

Advertisement