গাজা ‘বোর্ড অব পিস’-এর বিরোধিতা ইসরায়েলি কট্টর ডানপন্থীদের
তেল আবিব — গাজা উপত্যকার ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও পুনর্গঠন তদারকিতে প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহল থেকে আসা এই প্রস্তাবকে তারা ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও সার্বভৌম স্বার্থের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে।
বোর্ড অব পিস কী
গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী শাসনব্যবস্থা, মানবিক সহায়তা এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য একটি আন্তর্জাতিক কাঠামো হিসেবে ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের ধারণা সামনে এসেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য অঞ্চলের কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি থাকার কথা বলা হয়েছে। লক্ষ্য হিসেবে শান্তি স্থাপন ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ডানপন্থীদের আপত্তি কোথায়
ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী নেতারা বলছেন, এই বোর্ড কার্যত গাজার ওপর আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথ খুলে দেবে। তাদের অভিযোগ, এতে ইসরায়েলের সামরিক স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সীমিত হতে পারে। কেউ কেউ এটিকে “অগ্রহণযোগ্য বিদেশি হস্তক্ষেপ” বলেও আখ্যা দিয়েছেন।
সরকারি অবস্থান ও অভ্যন্তরীণ চাপ
ইসরায়েলি সরকারের ভেতরেও এই ইস্যুতে মতভেদ স্পষ্ট। মধ্যপন্থী কিছু রাজনীতিক কূটনৈতিকভাবে প্রস্তাবটি পর্যালোচনার পক্ষে থাকলেও ডানপন্থী জোটসঙ্গীরা কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন। ফলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের ওপর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়ছে।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
আন্তর্জাতিক মহলে ‘বোর্ড অব পিস’ ধারণাটিকে কেউ কেউ বাস্তবসম্মত সমাধান হিসেবে দেখছেন। তবে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা স্পষ্ট হওয়ায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েলের সম্মতি ছাড়া গাজার ভবিষ্যৎ কাঠামো টেকসই হবে না।
বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, গাজা ইস্যু এখন শুধু ফিলিস্তিনি সংকট নয়, বরং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির পরীক্ষাক্ষেত্র। ইসরায়েলি ডানপন্থীদের বিরোধিতা এই প্রস্তাবের পথকে আরও জটিল করে তুলছে।
উপসংহার
গাজা ‘বোর্ড অব পিস’ নিয়ে ইসরায়েলের ভেতরের বিরোধিতা দেখাচ্ছে যে যুদ্ধ-পরবর্তী সমাধান শুধু আন্তর্জাতিক প্রস্তাবেই সম্ভব নয়। স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ সমন্বয় না হলে শান্তির উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না।
