গ্রেফতার না করে পুলিশ কেন তিন শতাধিক ‘দুষ্কৃতিকারীকে’ চট্টগ্রামে ঢুকতে নিষেধ করছে?

চট্টগ্রামে ৩ শতাধিক ব্যক্তির প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ: সিএমপির নজিরবিহীন গণবিজ্ঞপ্তি

চট্টগ্রামে ৩ শতাধিক ব্যক্তির প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ: সিএমপির নজিরবিহীন গণবিজ্ঞপ্তি

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকায় ঢোকা ও অবস্থান নিষিদ্ধ করে তিন শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ইতিহাসে এটিকে নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত শনিবার প্রকাশিত তালিকায় চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতার সংখ্যা বেশি।

তালিকায় বিএনপির কয়েকজন স্থানীয় নেতার নামও রয়েছে। একই সঙ্গে রয়েছে কারাগারে বন্দি ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস (ইসকন) নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের নাম।

নির্বাচন সামনে রেখে কঠোর সিদ্ধান্ত

আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা ও জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ।

“এগুলো হচ্ছে সন্ত্রাসী। এদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলাসহ নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” — হাসিব আজিজ

এর আগেও ‘অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারের নির্দেশ’ দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন সিএমপি কমিশনার।

মানবাধিকারকর্মীদের আপত্তি

মানবাধিকারকর্মীরা এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন,

“পুলিশ যদি কাউকে জননিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে, তাহলে তাকে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত। এভাবে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল।”

নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলাম আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এতে সন্ত্রাসীরা চট্টগ্রাম ছাড়িয়ে অন্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তালিকায় কারা আছেন?

প্রথম দফায় ৩৩০ জনের নাম প্রকাশ করা হলেও পরে সংশোধিত তালিকায় ২২৯ জনের নাম রাখা হয়। তালিকায় সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, মেয়র ও সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলরদের নাম রয়েছে।

এক নম্বরে রয়েছে শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. জাহেদ ওরফে ‘পিচ্চি জাহিদ’। এছাড়া বড় সাজ্জাদ, ছোট সাজ্জাদ, মুন্না খান, রাজীব দত্তসহ একাধিক পরিচিত অপরাধীর নাম অন্তর্ভুক্ত।

তালিকায় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ বহু রাজনৈতিক নেতার নাম রয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে যা বলা হয়েছে

সিএমপি অধ্যাদেশ, ১৯৭৮-এর ৪০, ৪১ ও ৪৩ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ।

আদেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

গ্রেফতার অভিযান চলবে কি না?

সিএমপি কমিশনার জানান, নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি এই গণবিজ্ঞপ্তি অপরাধীদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি করবে এবং এতে গ্রেফতার সহজ হবে।

“আইন মেনেই কাজ করা হয়েছে। অপরাধীদের ধরতে সব ফ্রন্ট ওপেন রাখা হয়েছে।” — হাসিব আজিজ
Next Post Previous Post

Advertisement