গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন আগ্রাসনে পুতিন হবেন সবচেয়ে সুখী মানুষ
মস্কো/ওয়াশিংটন — গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী অবস্থান ও সামরিক-রাজনৈতিক চাপ বাড়লে সবচেয়ে বেশি কৌশলগত সুবিধা পেতে পারেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন—এমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এই ইস্যুতে পশ্চিমা জোটে বিভাজন তৈরি হলে তা সরাসরি মস্কোর ভূরাজনৈতিক স্বার্থে কাজ করবে।
গ্রিনল্যান্ড কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত গ্রিনল্যান্ড খনিজ সম্পদ, বিরল ধাতু এবং ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক নৌপথের কারণে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব বাড়ানো নিয়ে ওয়াশিংটনের বক্তব্য ইউরোপে অস্বস্তি তৈরি করেছে।
পশ্চিমা জোটে ফাটলের আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের একক অবস্থান ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়াতে পারে। ডেনমার্ক ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক টানাপোড়েনে পড়লে পশ্চিমা জোটের ঐক্য দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই বিভাজনই রাশিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় কৌশলগত লাভ।
রাশিয়ার সম্ভাব্য লাভ
রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই আর্কটিকে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় কমে গেলে মস্কো সেখানে সামরিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও জোরদার করতে পারবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র–ইউরোপ দ্বন্দ্ব গভীর হলে পুতিনের কূটনৈতিক অবস্থান আরও শক্ত হবে।
বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী কৌশল শুধু আঞ্চলিক উত্তেজনাই বাড়াবে না, বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া তুলনামূলকভাবে কম খরচে বড় কৌশলগত সুবিধা আদায় করতে পারে।
উপসংহার
গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন আগ্রাসন যদি পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে, তাহলে তার সবচেয়ে বড় লাভবান হতে পারেন ভ্লাদিমির পুতিন। ফলে এই ইস্যু এখন শুধু একটি ভূখণ্ড নিয়ে টানাপোড়েন নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির সমীকরণের অংশ হয়ে উঠেছে।
