এই দেশে আর ফ্যাসিবাদের ছায়া দেখতে চাই না
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-১৫ আসনে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদী শাসনের ছায়া দেখতে চান না তারা। নির্বাচন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, ইনসাফ এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা-১৫ আসনে আয়োজিত এক জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন। এই সমাবেশের মাধ্যমে ওই আসনে জামায়াতের নির্বাচনি প্রচারণার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। সমাবেশে ১০ দলের জোটের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
ফ্যাসিবাদ ও ভোট কারচুপির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এই দেশে আর ফ্যাসিবাদের ছায়া চাই না। যদি তা আবার ফিরে আসে, তাহলে আগের মতোই পরিণতি হবে।” তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি।
তার মতে, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত না হলে জনগণের আস্থা ফেরানো সম্ভব নয়। এ কারণে জামায়াত আর কোনো ভোট কারচুপির নির্বাচন দেখতে চায় না বলে স্পষ্ট করেন তিনি।
দুর্নীতি ও ‘আয়নাঘর’ প্রসঙ্গ
দেশের শাসনব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, দেশে যদি ইনসাফ বা ন্যায়বিচার থাকত, তাহলে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মতো ঘটনা ঘটত না। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে তথাকথিত ‘আয়নাঘর’ তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারাও রেহাই পাননি।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রশ্নটি সামনে আনেন এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আর দেখতে না চাওয়ার কথা জানান।
গণভোট ও জোট রাজনীতি
সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ এবার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়যুক্ত করতে মুখিয়ে আছে। তিনি এ সময় ১০ দলের জোটের ঢাকার বিভিন্ন আসনে মনোনীত প্রার্থীদের হাতে সমন্বিত প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ তুলে দেন।
জোট নেতারা জানান, সমন্বিতভাবে নির্বাচন করার মাধ্যমে বিরোধী ভোট বিভক্ত না করে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য।
ঢাকা-১৫ আসনের স্থানীয় সমস্যা ও প্রতিশ্রুতি
ঢাকা-১৫ আসনের সমস্যা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, এই এলাকায় মানসম্মত সরকারি হাসপাতালের অভাব রয়েছে। পাশাপাশি এলাকার খালগুলো ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
নির্বাচিত হলে তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশ্বমানের করার পাশাপাশি অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে জোর দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
চাঁদাবাজি নয়, কর্মসংস্থানই অগ্রাধিকার
ডা. শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, জামায়াত কারও কাছ থেকে চাঁদা নেবে না। বরং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে জনগণের পাশে দাঁড়াবে। তার দাবি, অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও নৈতিক রাজনীতির মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।
সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সতর্কবার্তা
সমাবেশে ঢাকা-১১ আসনের জোট প্রার্থী নাহিদ ইসলাম বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু হতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি নিরপেক্ষ আচরণ না করে, তাহলে জনগণ আবারও মাঠে নামতে বাধ্য হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াত ও জোট নেতাদের এই বক্তব্য ভোটারদের মধ্যে বার্তা পৌঁছানোর পাশাপাশি নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে চাপ তৈরির কৌশল হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
Source: Based on reporting from Amar Desh Online
