ট্রাম্পের শান্তি পরিষদে ঢুকতে লাগবে ১০০ কোটি ডলার
ওয়াশিংটন — সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত “শান্তি পরিষদ” বা Peace Council-এ সদস্য হয়ে অংশ নিতে হলে প্রস্তাবিত খরচ প্রায় **১০০ কোটি মার্কিন ডলার** লাগবে — এমন তথ্য সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় এসেছে। এতে বোর্ডে সদস্যপদে যোগদানে লাগবে বড় অঙ্কের অর্থ, যা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
শান্তি পরিষদ কী?
ট্রাম্প “শান্তি পরিষদ” নামে একটি আন্তর্জাতিক কাঠামো গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন। এর উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে — বিশেষত গাজা অঞ্চলে — *শান্তি, পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক সমন্বয়* করা। কর্মপরিকল্পন অনুযায়ী শান্তি পরিষদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, বিশেষজ্ঞ ও মঙ্গলের সংগঠনগুলো অংশ নেবে।
১০০ কোটি ডলার সদস্য ফি কেন?
প্রধান অভিযোগটি এসেছে যে শান্তি পরিষদে পুরো বোর্ডে সদস্যপদ পেতে এক বড় **আর্থিক শর্ত (membership fee)** রাখা হয়েছে — প্রায় **১০০ কোটি ডলার**। এই অর্থ বিভিন্ন উদ্যোগে ব্যয় করা হবে বলে বলা হয়েছে, যেমন:
- মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসন প্রকল্প
- শান্তি ও নিরাপত্তা লিটিকা উন্নয়ন
- আঞ্চলিক অবকাঠামো নির্মাণ
- পরামর্শ ও কৌশলগত সমন্বয়
ট্রাম্পের সমর্থকরা দাবি করছেন, এই অর্থ *গাজা ও অন্যান্য সংকটপ্রবণ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যবহার করা হবে*, এবং যারা বড় অবদান রাখতে চায় তিনি তাদের সহযোগিতা চান।
সমালোচনা ও বিতর্ক
উল্লেখযোগ্য সমালোচকরা বলছেন, শান্তি পরিষদে যোগ দিতে এমন উচ্চ ‘ফি’ রাখা **অসামাজিক ও অবাস্তব**। তাদের মতে, এটা কেবল ধনী দেশ বা শক্তিশালী অর্থনীতির দেশের জন্য সুবিধাজনক, আর সাধারণ মানুষের সমর্থনে বিশ্বাসঘাতকতা। অনেকের মতে, শান্তি উদ্যোগকে *বাণিজ্যিক ফরম্যাটে* পরিণত করলে প্রকৃত মানবিক লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
কিছু দেশের সরকার ‘শান্তি পরিষদ’-র মূল উদ্দেশ্য সমর্থন করেও এর সদস্যপদ ফি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তারা বলেছে, *শান্তির প্রচেষ্টা স্বাধীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়া উচিত, অর্থনৈতিক বিশাল বাধা ছাড়াই।*
বিশ্লেষকদের মতামত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, শান্তির মতো উদ্যোগে বড় বিনিয়োগ বা সমর্থন অবশ্যই দরকার, কিন্তু তা কেমনভাবে সংগঠিত ও পরিচালিত হবে তা গুরুত্বপূর্ণ। বিনা-শর্তে আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে পারলে প্রকৃত সমাধানে সহায়তা পাওয়া সম্ভব হবে।
উপসংহার
ট্রাম্পের “শান্তি পরিষদ”-তে ১০০ কোটি ডলারের সদস্য ফি প্রস্তাব আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও মানবিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এটি কি সত্যিই শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক, নাকি একটি রাজনৈতিক উপকরণ — এই প্রশ্নই এখন প্রধান আলোচ্য বিষয়।
