ভারতের সঙ্গে উত্তেজনার প্রভাব অর্থনীতিতে পড়বে না
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও ক্রীড়াভিত্তিক উত্তেজনা সত্ত্বেও দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে আশ্বস্ত করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে ক্রয়-বিক্রয় ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং এ নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান রাজনৈতিক টানাপড়েন অর্থনৈতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে না। “অর্থনীতি বিষয়ে ভারতের সঙ্গে কোনো সমস্যা হবে না। ক্রয়-বিক্রয় স্বাভাবিকভাবেই চলছে,”—বলেন তিনি। তার মতে, দুই দেশের পারস্পরিক বাণিজ্যিক নির্ভরতা এবং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক হঠাৎ করে ব্যাহত হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে নেই।
বাংলাদেশের প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের মধ্যে ভারত অন্যতম। খাদ্যশস্য, কাঁচামাল, শিল্পপণ্যসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, সীমান্ত বাণিজ্য ও আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য চ্যানেলগুলোতে এখন পর্যন্ত কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা যায়নি।
মুস্তাফিজ ইস্যু ও সাম্প্রতিক উত্তেজনা
সাম্প্রতিক উত্তেজনার পেছনে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে উদ্ভূত একটি ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। এ প্রসঙ্গে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “মুস্তাফিজকে নিয়ে যেটা ঘটেছে, সেটা দুঃখজনক। শুরুটা কিন্তু বাংলাদেশ করেনি।”
তিনি আরও বলেন, একজন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত খেলোয়াড়কে নিয়ে হঠাৎ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা অপ্রত্যাশিত ছিল। “একজন ভালো ও বিখ্যাত প্লেয়ার খেলতে যাবে—এটা দয়া বা অনুগ্রহ করে নয়। হঠাৎ করে তা বন্ধ করে দেওয়া দুঃখজনক,”—যোগ করেন অর্থ উপদেষ্টা।
রাজনৈতিক আবেগ বনাম বাস্তবতা
এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক প্রভাব অর্থনীতিতে পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এখানে মূলত আবেগের বিষয় কাজ করেছে। তার মতে, দুই পক্ষই বিষয়টি বিবেচনায় নেবে এবং কেউই চায় না সম্পর্কের অবনতি হোক।
তিনি বলেন, “এটা দুই দেশের কারও জন্য ভালো নয়। আমরা চাই না সম্পর্ক হ্যাম্পার হোক।” অর্থ উপদেষ্টার ভাষ্য অনুযায়ী, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকলেও অর্থনৈতিক বাস্তবতা আলাদা, এবং উভয় দেশই সে বাস্তবতা বোঝে।
বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া ‘যথাযথ’
মুস্তাফিজুর রহমান প্রসঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়াকে যথাযথ বলেও মন্তব্য করেন অর্থ উপদেষ্টা। “মুস্তাফিজ একজন সেরা খেলোয়াড়—এটা সবাই স্বীকার করে, তারাও স্বীকার করে। বাংলাদেশ যে রেসপন্স করেছে, সেটা সম্পূর্ণভাবে অ্যাপ্রোপ্রিয়েট,”—বলেন তিনি।
তার মতে, কোনো পক্ষ যদি হঠাৎ করে এমন পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তার প্রতিক্রিয়া আসাটাই স্বাভাবিক। তবে সেই প্রতিক্রিয়া যেন দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ক্ষতি না করে, সেদিকে নজর রাখা জরুরি।
শেষ কথা
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক মাঝে মাঝে রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক কারণে চাপে পড়লেও অর্থনৈতিক স্বার্থ দুই দেশকেই সংযত রাখে। অর্থ উপদেষ্টার বক্তব্য সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন। বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থনীতি ও বাণিজ্য স্বাভাবিক রাখার বার্তা বাজার ও ব্যবসায়ীদের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Source: Based on reporting from local media and official statements
