বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের স্মৃতিফলক ভাঙা নিয়ে যা জানাল প্রশাসন
নরসিংদীর রায়পুরায় বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের স্মৃতিফলক ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে সড়ক সম্প্রসারণ কাজ নির্বিঘ্নে বাস্তবায়নের স্বার্থেই স্মৃতিফলকটি সাময়িকভাবে অপসারণ করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
প্রশাসনের দাবি, এটি কোনোভাবেই বীরশ্রেষ্ঠের প্রতি অসম্মান বা অবহেলার ঘটনা নয়; বরং আগের নকশা অনুসরণ করে আরও বড় পরিসরে স্মৃতিফলক পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কেন অপসারণ করা হলো স্মৃতিফলক
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রশস্তকরণের সময় বিদ্যমান স্মৃতিফলকটি সড়কের মাঝামাঝি অবস্থানে পড়ে যাচ্ছিল। এতে উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে ফলকটি সাময়িকভাবে সরিয়ে নেয়।
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, উন্নয়ন প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী সড়ক সম্প্রসারণের জন্য নির্ধারিত জায়গা ছাড়িয়ে মহাসড়কের পাশেই স্মৃতিফলকটি নতুন করে নির্মাণ করা হবে। আগের তুলনায় এর আয়তনও বাড়ানো হচ্ছে, যাতে দূর থেকে সহজেই স্মৃতিফলকটি দেখা যায়।
ভাইরাল ভিডিও ও বিভ্রান্তি
স্মৃতিফলক অপসারণের একটি ভিডিও ও কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে এক্সকাভেটরের সাহায্যে ফলক সরানোর দৃশ্য দেখা যাওয়ায় অনেকেই এটিকে ভাঙচুর বলে ধরে নেন।
তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ভিডিওর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো অসামঞ্জস্য নেই। নির্ধারিত নিয়ম মেনেই ফলকটি সরানো হয়েছে এবং এর আগে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের পরিবারের অনুমতিও নেওয়া হয়েছে।
আরও বড় আকারে পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ
প্রশাসন জানায়, আগের ১৬ ফুট বাই ১৬ ফুট কাঠামোর পরিবর্তে নতুন স্মৃতিফলকটি ২০ ফুট বাই ২০ ফুট আকারে নির্মাণ করা হবে। আগের নকশা ও কাঠামো অক্ষুণ্ন রেখেই পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হচ্ছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, উন্নয়ন কাজের প্রয়োজনে সাময়িক অপসারণ হলেও বীরশ্রেষ্ঠের স্মৃতিকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি। তারা আশা প্রকাশ করেন, পুনর্নির্মাণের সময় স্মৃতিফলকের ঐতিহাসিক ও প্রতীকী দিকগুলো বজায় রাখা হবে।
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান: গর্বের প্রতীক
ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান বাংলাদেশের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের একজন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তানের একটি বিমানঘাঁটি থেকে যুদ্ধবিমান নিয়ে দেশের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে তিনি শহীদ হন। দেশের প্রতি অসামান্য আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়।
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রামনগর এলাকায় তার গ্রামের বাড়িতে একটি জাদুঘর নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মহাসড়কের পাশে ‘বাংলার ঈগল’ নামে নির্মিত স্মৃতিফলকটি তার বীরত্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। উন্নয়ন ও ইতিহাস সংরক্ষণ—দুটিই একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার স্বার্থে সবাইকে গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নতুন স্মৃতিফলক নির্মাণ শেষ করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
Source: Based on reporting from local administration and national media
