তারেক রহমান নির্বাসিত জীবনেও দেশের মানুষের কথা ভেবেছেন
তারেক রহমান নির্বাসিত জীবনযাপন করলেও দেশের মানুষ ও রাষ্ট্র পরিচালনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন না—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। রাজধানীর ভাষানটেকে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় তিনি বলেন, দেশের সংকটময় বাস্তবতায় অভিজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব ছাড়া অগ্রগতি সম্ভব নয়।
ভাষানটেকে বিএনপির নির্বাচনি জনসভা
শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার ভাষানটেকের বিআরপি মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, নির্বাসনে থেকেও তারেক রহমান দেশের মানুষের কথা ভেবেছেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সুপরিকল্পিত ভাবনা তৈরি করেছেন। তার মতে, দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় তারেক রহমানের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, “যিনি দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে পারবেন, তাকেই নির্বাচিত করতে হবে।” তিনি দাবি করেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তারেক রহমানের নেতৃত্বেই সরকার গঠন করা হবে এবং সেই সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবে।
অভিজ্ঞ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অভিজ্ঞতার গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, বিএনপি ছাড়া অন্যান্য যেসব দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, তাদের অনেকেরই রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা নেই। তার ভাষায়, সংকটকালীন সময়ে পরীক্ষিত নেতৃত্বই দেশকে স্থিতিশীল রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিক চাপ, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব ছাড়া উন্নয়ন ধারাবাহিক রাখা কঠিন হবে।
প্রতিপক্ষের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা
জনসভায় নজরুল ইসলাম খান এক রাজনৈতিক প্রার্থীর বক্তব্যের সমালোচনা করেন, যিনি দাবি করেছিলেন যে বিএনপি ঢাকার কোনো আসনে জয়লাভ করতে পারবে না। এ বিষয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ওই প্রার্থী কীভাবে এমন নিশ্চয়তা দিতে পারেন।
তিনি বলেন, যিনি এই দাবি করেছেন, তার দলই অতীতে কখনো ঢাকায় কোনো আসনে জয়ী হতে পারেনি। এই ধরনের অহংকার ও দম্ভ রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর এবং শেষ পর্যন্ত সেটিই পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জনসভায় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি
নির্বাচনি এই জনসভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দল ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। জনসভাটি ঘিরে ভাষানটেক এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ ও উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়।
বিএনপির নেতারা মনে করছেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক জনসভা ও প্রচারণা ভোটারদের মধ্যে দলের অবস্থান আরও জোরালো করবে।
রাজনৈতিক বার্তার তাৎপর্য
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাসিত অবস্থায় থাকা তারেক রহমানকে সামনে রেখে বিএনপির এই বক্তব্য মূলত নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ও অভিজ্ঞতার বার্তা দেওয়ার কৌশল। আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের আস্থা অর্জনে এই বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
সব মিলিয়ে ভাষানটেকের জনসভা থেকে বিএনপি তাদের নির্বাচনি অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং নেতৃত্বের প্রশ্নে অভিজ্ঞতাকেই সামনে এনেছে।
Source: Based on reporting from Jagonews24
