গ্যাস সংকটে বন্ধ ফিলিং স্টেশন, গণপরিবহনে ভোগান্তি

রাঙ্গামাটি: পাহাড়ি জেলা রাঙ্গামাটিতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। জেলার চারটি এলপিজি অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশন কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার এলপিজি চালিত যানবাহনের মালিক ও চালক চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। রান্নার জন্য গ্যাসের অভাবও সাধারণ গৃহিণীদের জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে।

অটোগ্যাস চালিত যানবাহনের সমস্যা

রাঙ্গামাটির অটোরিকশাচালক নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, “গতকাল থেকে কোথাও এলপিজি গ্যাস পাচ্ছি না। বিকল্প হিসেবে পেট্রোল বা অকটেন ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে জ্বালানি খরচ দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আমরা বিপাকে পড়ব।”

শহরের রাজবাড়ি এলাকার অটোরিকশাচালক সাগর ত্রিপুরা বলেন, “ভাড়া চালাতে গিয়ে যাত্রীদের কাছে অতিরিক্ত খরচ দাবি করতে হচ্ছে, কিন্তু কেউ তা দিতে রাজি নয়। ফলে সিএনজি চালিত পরিবহন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।”

সাধারণ মানুষের ভোগান্তি

তবলছড়ি এলাকার বাসিন্দা শুভ্র দাশ জানিয়েছেন, “একটি প্রাইভেটকার ভাড়া নিতে গিয়েছিলাম, দাম হঠাৎ দুই থেকে দেড় গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য এটি সমস্যা সৃষ্টি করছে।”

স্থানীয় স্কুলশিক্ষক অরুপ মুৎসুদ্দি বলেন, “ফিলিং স্টেশনে গ্যাস না থাকায় অটোরিকশা চলাচল প্রায় বন্ধ। ফলে জনদূর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।”

গ্যাস সরবরাহের অনিশ্চয়তা

রাঙ্গামাটির জ্বালানি গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মা এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক সঞ্জয় দাশ জানিয়েছেন, “গত দুদিন ধরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ। আজও কবে পুনরায় গ্যাস পাওয়া যাবে, তা আমরা নিশ্চিত করতে পারছি না। তবে গ্যাসের গাড়ি রিফিল হলে সরবরাহ শুরু হবে।”

তিনি আরও বলেন, “যেহেতু চাহিদা বেশি, তাই সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করা হবে। এতে সকলকে একই পরিমাণে দেওয়া সম্ভব হবে না। মালিকরা সিদ্ধান্ত নেবেন কতটুকু গ্যাস দেওয়া হবে।”

রেস্তোরাঁ ও রান্নার ক্ষেত্রে প্রভাব

শহরের বিজন সরণি এলাকার রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী সুশীল চাকমা জানান, “রান্না প্রায় সব গ্যাসনির্ভর। গ্যাস না থাকলে আমাদের রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখতে হবে।” পৌর এলাকার খুচরা বিক্রেতা আব্দুস সাত্তার মিন্টু বলেন, “আমার কাছে মাত্র ১০টি সিলিন্ডার আছে, যা সীমিত চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট নয়। অনেক দোকান এই সময় অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে।”

অতिरिक्त ভাড়া ও সচেতনতা

রাঙ্গামাটি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবু বলেন, “গ্যাস সংকটের সুযোগে কেউ কেউ অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেন। আমরা মাইকিং করে যাত্রীদের সতর্ক করেছি। তবে একটি ফিলিং স্টেশনে আজই গ্যাস সরবরাহ শুরু হলে সংকট কিছুটা কমবে।”

বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, রাঙ্গামাটির বাসিন্দা ও এলপিজি চালিত যানবাহনের মালিকদের জন্য ঝুঁকি ও ভোগান্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্রুত কার্যকর সমাধান ছাড়া শহরের গণপরিবহন ও দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Source: Based on reporting from Jagonews24

Next Post Previous Post

Advertisement