ইরানে বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিলে ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নেবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের হুশিয়ারি
ঢাকা — মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী যদি সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করার অভিযোগে আটক demonstrators-এর ফাঁসি কার্যকর করে, তাহলে **যুক্তরাষ্ট্র “খুব কঠোর পদক্ষেপ” নিতে প্রস্তুত**। ট্রাম্প মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) একটি সাক্ষাৎকারে এই সতর্কবার্তা দেন এবং তেহরানকে মানবিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন বৃষ্টিপাতের মতো পরিস্থিতিতে “মানুষকে হত্যা করা” চলবে না। 0
ট্রাম্প কী বলেছেন?
ট্রাম্প সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি এমন কোনো তথ্য পাননি যে ইরান ইতোমধ্যেই বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিচ্ছে, কিন্তু যদি সেক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটে, “যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত কঠোরভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে।” তিনি বিস্তারিতভাবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা স্পষ্ট করেননি, তবে আগের মন্তব্যে তিনি ইরানকে লক্ষ্য করে “খুব শক্তিশালী Action” নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। 1
প্রেক্ষাপট: ইরানে চলমান দমন-পীড়ন
ইরানে গত ডিসেম্বর থেকে সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভ দমাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এবং বেশ কিছু বিক্ষোভকারী নিহত ও আটক হয়েছে। তেহরান স্থানীয় আদালত দ্রুত বিচারগুলোতে কিছু বিক্ষোভকারীকে “মোহারেবেহ” (ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ)–এর মতো গুরুতর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছে, যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। 2
মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইরানের সরকারের কঠোর দমন-পীড়ন ও দ্রুত বিচার ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইন্টারনেট বন্ধ, প্রতিবাদের তথ্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন শাস্তি আরোপ আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়ে গেছে, যদিও তিনি পদক্ষেপের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। 3
ইরানের প্রতিক্রিয়া
ইরানি কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের সতর্ককে “সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত” হিসেবে খারিজ করেছে এবং বলেছে যে বাইরের চাপ দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। তেহরান দাবি করেছে যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক চাপ তাঁদের নীতিতে প্রভাব ফেলবে না। 4
বিশ্লেষণ
ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ইরান-মার্কিন সম্পর্ককে আরও টানাপোড়েনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। যদিও কখনো কখনো সামরিক হুমকির ভাষা ব্যবহার করা হয়, বাস্তবে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ কেন বা কিভাবে নেওয়া হবে তা স্পষ্ট নয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক নীতিগত চাপের মতো বিষয়গুলো আরও জটিল ইস্যু হিসেবে থেকে যাচ্ছে। 5
