খামেনির ওপর হামলা ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের’ শামিল হবে

ইরান পরিস্থিতি ও ট্রাম্পের মন্তব্য

ইরানের আর্থিক সংকট ও রাজনৈতিক উত্তেজনা

ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইরানিদের জীবনে বর্তমানে যে আর্থিক কষ্ট ও দুরবস্থা দেখা যাচ্ছে, তার অন্যতম প্রধান কারণ হলো মার্কিন সরকার ও তাদের মিত্রদের দীর্ঘদিনের শত্রুতা এবং অমানবিক নিষেধাজ্ঞা।

ট্রাম্পের বক্তব্য

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ৩৭ বছরের শাসনের অবসানের আহ্বান জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানে নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এসেছে’

স্থানীয় সময় রোববার (১৮ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ইরানের প্রতিক্রিয়া

ইরানি প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ওপর যেকোনো হামলা ইরানের বিরুদ্ধে ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ ঘোষণার শামিল’ হবে।

তিনি আরও বলেন, গত দুই সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের পেছনেও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও শত্রুতার বড় ভূমিকা রয়েছে।

পলিটিকোকে দেওয়া সাক্ষাৎকার

মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে আয়াতুল্লাহ খামেনির একাধিক এক্স পোস্ট পড়ে শোনানো হয়, যেখানে ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করা হয়।

জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানে নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এসেছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, দমন-পীড়ন ও সহিংসতার ওপর নির্ভর করেই ইরানি শাসকরা টিকে আছে।

ট্রাম্পের ভাষায়, খামেনি পুরো দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছেন এবং ক্ষমতায় টিকে থাকতে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করছেন।

বিক্ষোভ ও হতাহতের তথ্য

ডিসেম্বরের শেষ দিকে মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার দরপতন ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।

চলমান বিক্ষোভের সময় ইন্টারনেট ও ফোন সংযোগ বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। নেটব্লকস জানায়, রোববার কিছু অনলাইন সেবায় আংশিক প্রবেশাধিকার ফিরেছে।

এদিকে, ইরানজুড়ে চলা বিক্ষোভে অন্তত ৫ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

Next Post Previous Post

Advertisement