ইরানের বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করল সেনাবাহিনী

ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী এবং ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দেশটির বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করেছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) পৃথক বিবৃতিতে তারা সতর্ক করেছেন যে, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আক্রমণ হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইআরজিসি ও সেনাবাহিনীর বিবৃতি

আইআরজিসি রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “গত দু’দিন ধরে সন্ত্রাসীরা সামরিক ও আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর ঘাঁটিগুলো দখলের চেষ্টা করেছে, বেশ কয়েকজন নাগরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা হত্যা করা হয়েছে এবং সরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এমন ঘটনা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করছি।”

নিয়মিত সেনাবাহিনীও পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “ইরানের জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত অবকাঠামো এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় সেনাবাহিনী প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। রাষ্ট্র ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষা আমাদের অগ্রাধিকার।”

বিক্ষোভের প্রেক্ষাপট

ইরানে দীর্ঘদিন ধরে মুদ্রা ইরানি রিয়েলের অবনতি এবং অসহনীয় মূল্যস্ফীতি জনসাধারণের অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেন, যা দ্রুতই দেশের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর-গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন।

ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকারও তৎপরতা চালাচ্ছে। রাজধানীসহ দেশের সব শহরে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং দেশের ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। মার্কিন সাময়িকী টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের ১৩ দিনে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে কমপক্ষে ২০০ জন নিহত হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

ইরানের বিক্ষোভ ও সরকারের কঠোর পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও সতর্ক। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানি সরকারের ওপর বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যদি সরকার কঠোরভাবে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উদ্যোগ নিতে পারে। এ পর্যন্ত চারবার তিনি এই সতর্কতা দিয়েছেন।

উপসংহার

ইরানের বিক্ষোভ ও সেনাবাহিনীর ‘রেড লাইন’ ঘোষণা দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার প্রতিফলন। মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি নীতি বিরোধিতার কারণে বিক্ষোভ দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর কড়া পদক্ষেপ পরিস্থিতির উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করতে পারে, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হিসেবে ধরা হচ্ছে।

Source: Based on reporting from AFP via Dhaka Post

Next Post Previous Post

Advertisement