মাদুরোকে আটক ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান নিয়ে যা জানা গেল

মাদুরোকে যেভাবে আটক করা হয়: যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তারিত বিবরণ

মাদুরোকে যেভাবে আটক করা হয়: যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তারিত বিবরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৩ জানুয়ারি ২০২৬

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কীভাবে আটক করা হয়েছে—তার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (৩ জানুয়ারি) মধ্যরাতে রাজধানী কারাকাস থেকে সস্ত্রীক তাকে আটক করা হয়।

মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ‘অ্যাবসুলেট রিজল্ভ’ নামে এই সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়।

ড্যান কেইন বলেন, ২ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভেনেজুয়েলার স্থানীয় সময় এই অভিযান শুরু হয়। গত কয়েক মাস ধরে এ অভিযানের প্রস্তুতি চলছিল এবং নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা কার্যকর করা হয়।

তার ভাষ্যমতে, মাদুরো তখন একটি সুরক্ষিত ঘাঁটিতে অবস্থান করছিলেন। তাকে আটক করতে হেলিকপ্টার পাঠানো হয় এবং হেলিকপ্টারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযানে মোতায়েন করা হয় ১৫০টি যুদ্ধবিমান

এসব যুদ্ধবিমান ভেনেজুয়েলার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়ে সেগুলো অকার্যকর করে দেয়। এরপর নির্বিঘ্নে হেলিকপ্টার মাদুরোর অবস্থানস্থলে পৌঁছে যায়।

অভিযানের সময় ভেনেজুয়েলার সেনারা একটি হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে হামলা চালালেও সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং উড্ডয়ন সক্ষম ছিল বলে জানান ড্যান কেইন।

তিনি আরও বলেন, রাত ২টা ১ মিনিটে মার্কিন বাহিনী ও বিশেষ সামরিক দল কারাকাসে মাদুরোর অবস্থানস্থলে পৌঁছায়। এ সময় মাদুরো ও তার স্ত্রী আত্মসমর্পণ করেন

ফিরে আসার পথে মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে তারা পাল্টা গুলি চালায়। তবে অভিযানে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

ড্যান কেইনের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোর ৪টা ২৯ মিনিটের মধ্যে মাদুরোকে বহনকারী দলটি সমুদ্রসীমায় পৌঁছে যায়। সেখান থেকে তাকে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে তোলা হয়, যা তাকে নিয়ে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা দেয়।

অভিযানের সময় মাদুরোর নিরাপত্তা বাহিনী বা প্রেসিডেন্ট গার্ড প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল কি না—সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি মার্কিন এই সামরিক কর্মকর্তা।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, মাদুরো একটি সেফ রুমে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন, তবে তিনি সফল হননি। ট্রাম্প বলেন, মাদুরো সেফ রুমে প্রবেশ করলেও তিনি বাঁচতে পারতেন না, কারণ প্রয়োজন হলে সেই রুমের দরজাও ভেঙে ফেলা হতো।

Next Post Previous Post

Advertisement