ঢাকায় অপ্রত্যাশিত করমর্দন, গলবে কি ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের বরফ?

গত বছরের মে মাসে চার দিনের সামরিক সংঘর্ষের পর ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক সবচেয়ে তলানিতে নেমে গিয়েছিল। তবে ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং পাকিস্তানের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিকের মধ্যে অপ্রত্যাশিত করমর্দন নজর কাড়েছে। এই মুহূর্তে সামাজিক ও কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর সম্পর্কের বরফ গলানোর সূচনা?

পাহেলগাম হামলার প্রেক্ষাপট

২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ভারত-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে একটি হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেছিল দিল্লি। হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হন। ইসলামাবাদ হামলার সঙ্গে যুক্ত নয় বলে দাবি করে এবং একটি নিরপেক্ষ তদন্তের প্রস্তাব দেয়।

এই ঘটনার পর পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশের মধ্যে চার দিনের তীব্র সামরিক সংঘর্ষ শুরু হয়। পাকিস্তান ফরাসি তৈরি ভারতের সাতটি রাফায়েল বিমান ভূপাতিত করে। সংঘর্ষের অবসান ঘটে ২০২৫ সালের ১০ মে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে।

ঢাকায় করমর্দনের তাৎপর্য

জিও টিভির সঙ্গে কথা বলার সময় সাবেক রাষ্ট্রদূত মালিহা লোধি বলেন, এই করমর্দনের কোনো বিশেষ কূটনৈতিক তাৎপর্য নেই। তিনি এটিকে ‘অপ্রত্যাশিত, পরিকল্পিত বা কোরিওগ্রাফিক নয়’ বলে বর্ণনা করেন।

তিনি আরও বলেন, এটি ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত নয়। ভারত এখনও পাকিস্তানের সঙ্গে সংলাপ পুনরায় শুরু করতে আগ্রহ দেখায়নি এবং ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে প্রতিকূল বক্তব্য অব্যাহত রেখেছে। পাকিস্তান পিপলস পার্টির সিনেটর এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত শেরি রেহমান লোধিও এটিকে কোনো পরিকল্পিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখেন না।

ভারতের পদক্ষেপ ও পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া

পাহেলগাম হামলার পর ভারত পাকিস্তান বিরোধী পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬৫ বছরের পুরনো সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখা। ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার নদী ও উপনদীগুলোর জলের বিভাজন নিয়ন্ত্রণ করে। পাকিস্তান ভারতকে ‘জল সন্ত্রাস’ চালানোর অভিযোগ দায়ের করেছে।

বিশ্লেষক মতামত

ওয়াশিংটন-ভিত্তিক আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, করমর্দনটি মূলত প্রোটোকল অনুসারে স্বাভাবিক শিষ্টাচারের অংশ ছিল। তিনি বলেন, “একটি গম্ভীর পরিবেশে, একে অপরকে উপেক্ষা করার পরিবর্তে সংক্ষিপ্ত করমর্দন যুক্তিসংগত ছিল।”

তবে তিনি এটিকে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের কোনো উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন না। দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বরফ গলতে এখনও অনেক দূর।

Source: Based on reporting from আমার দেশ অনলাইন

Next Post Previous Post

Advertisement