ইসলামী আন্দোলনকে জোটে না রাখতে পারা জামায়াতের বড় ধাক্কা : মাসুদ কামাল
ইসলামী আন্দোলনকে জোটে না রাখতে পারা জামায়াতের বড় ধাক্কা: মাসুদ কামাল
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:৩৭
আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে জোটে রাখতে না পারায় জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল। তার মতে, ইসলামী আন্দোলনের একটি নিজস্ব ও সংগঠিত ভোটব্যাংক রয়েছে, যা জোটে না থাকলে জামায়াতের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দেবে।
সম্প্রতি সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজের ইউটিউব চ্যানেল ‘ভয়েস বাংলা’-তে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শক্তিশালী বিরোধী দলের গুরুত্ব
মাসুদ কামাল বলেন, জাতীয় সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকলে ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে বেপরোয়া মনোভাব তৈরি হয়। বিরোধী দল দুর্বল হলে সরকার মনে করে, পাঁচ বছরের ম্যান্ডেট পাওয়ার পর যা খুশি তাই করা যাবে—দেখার বা বলার কেউ নেই।
তিনি বলেন, এই বাস্তবতা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে। ফলে জনগণ সবসময় এমন বিরোধী দল প্রত্যাশা করে, যারা সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখবে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভাবতে বাধ্য করবে।
জামায়াতের সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা
একসময় মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছিল যে জামায়াতে ইসলামি একটি শক্তিশালী বিরোধী শক্তি হতে পারে। তবে ইসলামী আন্দোলনকে জোটে ধরে রাখতে না পারায় সেই সম্ভাবনা অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার মতে, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন নিয়মিত অংশগ্রহণ করলেও জামায়াত দীর্ঘ সময় নির্বাচন থেকে দূরে ছিল। ফলে নতুন ভোটারদের একটি বড় অংশ জামায়াতের প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র সঙ্গে আগের মতো পরিচিত নয়।
বরং ইসলামী আন্দোলনের ‘হাতপাখা’ প্রতীকটি এখন বেশি পরিচিত হয়ে উঠেছে। এই কারণে ইসলামী আন্দোলন জামায়াতের জন্য একটি কার্যকর রাজনৈতিক অংশীদার হতে পারত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভোট কৌশল ও নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গ
মাসুদ কামাল বলেন, জামায়াত হিসাব করে রাজনীতি করে। যে ১৭৯টি আসনে তারা প্রার্থী দিয়েছে, সেখানে সম্ভাবনাময় আসনগুলোতেই বেশি জোর দেওয়া হবে। যেখানে জয়ের সম্ভাবনা কম, সেখানে সাংগঠনিক শক্তি কমিয়ে সম্ভাবনাময় এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার কৌশল থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে অন্যের ভোটে জেতার সুযোগ কম। প্রত্যেক প্রার্থীকে নিজের ভোট নিজেকেই সংগ্রহ করতে হবে।
আলোচনায় তিনি পোস্টাল ব্যালট প্রসঙ্গেও নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করেন। তার মতে, কমিশনের অদক্ষতার কারণে এ বিষয়টি বিতর্ক তৈরি করছে এবং নির্বাচন ব্যবস্থাপনা নিয়ে জনআস্থার সংকট বাড়ছে।
