হয় চুক্তি করুন, নয়তো ফল ভোগ করুন’, কিউবাকে হুমকি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার ওপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবায় আর কোনো তেল বা আর্থিক সহায়তা যেতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে সমাজতান্ত্রিক শাসিত দ্বীপ রাষ্ট্রটিকে দ্রুত ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১১ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। তার বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ক্যারিবীয় অঞ্চলজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ভেনেজুয়েলা-কিউবা তেল সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট
ভেনেজুয়েলা দীর্ঘদিন ধরেই কিউবার প্রধান তেল সরবরাহকারী দেশ। বিনিময়ে কিউবা ভেনেজুয়েলাকে বিভিন্ন নিরাপত্তা ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে এই সম্পর্ক বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন বাহিনীর অভিযানের পর ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং এরপর থেকেই কিউবায় ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ কার্যত বন্ধ রয়েছে। এই দাবি আন্তর্জাতিকভাবে ভিন্ন ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হলেও ওয়াশিংটন এটিকে কিউবার ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল হিসেবে সামনে এনেছে।
ট্রাম্পের কড়া বার্তা
ট্রাম্প তার পোস্টে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কিউবার জন্য ভেনেজুয়েলার তেল ও অর্থের জোগান এখন থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ।” তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই কিউবা সরকারের উচিত একটি ‘ডিল’-এ আসা।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, কিউবা দীর্ঘ সময় ধরে ভেনেজুয়েলার তেল ও আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং এর বিনিময়ে তারা ভেনেজুয়েলার একনায়কতান্ত্রিক শাসকদের নিরাপত্তা সহায়তা দিয়েছে। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ব্যবস্থার আর কোনো সুযোগ নেই।
ওয়াশিংটনের অবস্থান আরও কঠোর
ট্রাম্প প্রস্তাবিত সম্ভাব্য সমঝোতার বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিলেও মার্কিন কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিউবার বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর ইঙ্গিত এরই মধ্যে বিভিন্ন বক্তব্যে উঠে এসেছে।
এ প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প একটি আলোচিত পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে কিউবার ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত করে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যও করেন, যা হাভানার সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ককে আরও উত্তপ্ত করেছে।
কিউবার পাল্টা প্রতিক্রিয়া
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল ট্রাম্পের এই হুমকি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এক বার্তায় তিনি বলেন, কিউবা একটি মুক্ত, স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র, এবং কোনো দেশ তাদের ওপর একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত ৬৬ বছর ধরে কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও আগ্রাসনের মুখে রয়েছে এবং মাতৃভূমি রক্ষায় প্রয়োজনে শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করতে প্রস্তুত। কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজও ট্রাম্পের অবস্থানকে যুক্তরাষ্ট্রের “বেপরোয়া আধিপত্যবাদী আচরণ” হিসেবে আখ্যা দেন এবং জ্বালানি আমদানির সার্বভৌম অধিকার কিউবার রয়েছে বলে জোর দেন।
অর্থনৈতিক সংকটে বাড়তি চাপের আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ থাকলে কিউবার জন্য এটি মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। দেশটি ইতোমধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট, খাদ্য ও ওষুধের ঘাটতি সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন নৌবাহিনীর তৎপরতা এবং ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি কিউবার বর্তমান সরকারের সামনে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
উপসংহার
ভেনেজুয়েলা-কিউবা জ্বালানি সম্পর্ককে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের এই ঘোষণায় ক্যারিবীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে সাড়া দেবে কি না, নাকি দীর্ঘদিনের প্রতিরোধ নীতিতেই অটল থাকবে—তা নির্ধারণ করবে আগামী দিনের আঞ্চলিক রাজনীতি ও কূটনৈতিক সমীকরণ।
Source: Based on reporting from international media and statements cited in the original report.
