ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিলের ঘোষণা ট্রাম্পের

ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল, বিক্ষোভকারীদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান ট্রাম্পের

ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল, বিক্ষোভকারীদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে চলমান দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে তিনি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্ধারিত সব ধরনের বৈঠক বাতিল করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানের বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, বিক্ষোভকারীদের জন্য ‘সাহায্য আসছে’। তবে কী ধরনের সহায়তার কথা তিনি বলেছেন, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

গত কয়েকদিন ধরেই ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার কথা জানিয়ে আসছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ তিনি লেখেন,

“ইরানি দেশপ্রেমিকরা, প্রতিবাদ চালিয়ে যাও—তোমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করো। খুনি ও নির্যাতনকারীদের মনে রাখো। তাদের বড় মূল্য দিতে হবে।”

আরেক পোস্টে তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘নির্মম হত্যাকাণ্ড’ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব ধরনের বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া অবস্থান

ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে। সোমবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনো দেশকে যুক্তরাষ্ট্রে ২৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে।

পরদিন মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক সতর্কবার্তায় জানায়, ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে মার্কিন নাগরিকদের ‘অবিলম্বে ইরান ত্যাগ করা উচিত’

‘সাহায্য আসছে’—ব্যাখ্যা দিতে অস্বীকৃতি

সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে ‘সাহায্য আসছে’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি নির্দিষ্ট কোনো উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান। জবাবে তিনি বলেন,

“আপনাকেই সেটা খুঁজে বের করতে হবে।”

এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাতে পারে। ওই হুঁশিয়ারির পর তেহরান আলোচনার আগ্রহ দেখালেও ট্রাম্প বলেছিলেন, আলোচনা শুরুর আগেই সামরিক পদক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে

ইরানে চলমান বিক্ষোভ

উল্লেখ্য, ইরানে মুদ্রার দরপতন ও চরম মূল্যস্ফীতির জেরে গত ডিসেম্বর থেকে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়।

কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সহিংসতায় সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

Next Post Previous Post

Advertisement