কোনো শঙ্কা নেই, দেশের মানুষ ভোটের জন্য মুখিয়ে আছে : প্রেসসচিব

নির্বাচনকে ঘিরে দেশে কোনো অনিশ্চয়তা নেই বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম। তার ভাষায়, দীর্ঘ সময় পর দেশের মানুষ একটি গ্রহণযোগ্য ভোটের অপেক্ষায় আছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচারণায় জনসমাগমই সেই আগ্রহের প্রমাণ।

নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে সরকারের মূল্যায়ন

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া এলাকায় ইমামবাড়ি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসসচিব বলেন, বড় রাজনৈতিক দলগুলো যেখানেই নির্বাচনি প্রচারণায় যাচ্ছে, সেখানেই বিপুল মানুষের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এটি স্পষ্ট করে যে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে প্রস্তুত।

তিনি বলেন, গত এক দশকের বেশি সময় ধরে দেশের মানুষ একটি সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দেখতে পায়নি। অতীতে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে অনেকেই ব্যালট না পাওয়া, আগেই ব্যালট বাক্স সরিয়ে নেওয়া কিংবা ভোট দিতে না আসার নির্দেশের মতো অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে। এসব অভিজ্ঞতার কারণেই জনগণের মধ্যে এবার ভোট দেওয়ার আগ্রহ আরও বেশি।

প্রেসসচিবের মতে, আসন্ন নির্বাচন একটি ভিন্ন বাস্তবতায় অনুষ্ঠিত হবে এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সাম্প্রতিক সহিংসতা প্রসঙ্গ

বাউলশিল্পী আবুল সরকারের ভক্তদের ওপর হামলার বিষয়ে শফিকুল আলম ঘটনাটিকে নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এই ঘটনায় পুলিশ মামলা করেছে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। সরকার চায়, বাংলাদেশ তার ঐতিহ্যবাহী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখুক।

তিনি বলেন, মতভেদ থাকতেই পারে, তবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থান বজায় থাকলে সহিংসতার পুনরাবৃত্তি হবে না। সরকারের হিসাবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ৬০টির মতো মাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তিনি জানান।

সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আশ্বাস

প্রেসসচিব বলেন, আসন্ন নির্বাচনে বাউল সম্প্রদায়সহ সব শ্রেণি-পেশা ও ধর্মের মানুষ ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবেন। পীরভক্ত বা অপীরভক্ত, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কিংবা ধর্মে বিশ্বাস না করা নাগরিক—সবার জন্যই ভোটকেন্দ্র নিরাপদ থাকবে।

তার ভাষায়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অংশগ্রহণই সবচেয়ে বড় শক্তি, আর সেই শক্তির মাধ্যমেই নির্বাচন সফল হবে।

গণমাধ্যম সংস্কার ও তথ্য অধিকার

গণমাধ্যম সংস্কার প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, তথ্য অধিকার আইনকে আরও ব্যবহারবান্ধব করতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। কীভাবে তথ্য চাওয়া যাবে, রিপোর্ট করা হবে এবং নাগরিকরা কীভাবে তাদের তথ্য জানার অধিকার প্রয়োগ করবেন—এসব বিষয়ে একটি অধ্যাদেশ পাস করা হয়েছে।

তিনি স্বীকার করেন, ১৮ মাসের মধ্যে সব সংস্কার সম্পন্ন করা সম্ভব নয়, তবে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে কাজ করার চেষ্টা করছে সরকার।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের ব্যাখ্যা

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান জানিয়ে প্রেসসচিব বলেন, দীর্ঘ আলোচনার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংস্কার কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রায় নয় মাসের আলোচনার ফল হিসেবেই জুলাই সনদ সামনে এসেছে।

তার মতে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে স্বৈরশাসন ও অপশাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের পথ বন্ধ হবে।

Source: Based on reporting from Dhaka Post

Next Post Previous Post

Advertisement