এবার ব্যালটে ট্রাকই হচ্ছে নৌকা এবং ধানের শীষের প্রতিনিধি : নুরুল হক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় ভিন্ন বার্তা দিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। বিএনপি সমর্থিত এই প্রার্থী বলেছেন, এবার ব্যালটে নৌকা কিংবা ধানের শীষ নেই—ট্রাক প্রতীকই এই দুই প্রতীকের প্রতিনিধি হিসেবে ভোটারদের সামনে হাজির হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৫টার দিকে গলাচিপা উপজেলার কালিকাপুর মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় স্থানীয় গণঅধিকার পরিষদ ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির সমর্থনের কথা তুলে ধরলেন নুর
নুরুল হক নুর বলেন, বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে এই আসনে গণঅধিকার পরিষদকে সমর্থন দিয়েছে। অতীতে এই অঞ্চলে মূলত নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যেই নির্বাচন সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এবার ভিন্ন বাস্তবতায় ভোট হচ্ছে।
তিনি বলেন, “এবার ব্যালটে নৌকা নাই, ধানের শীষ নাই। ট্রাকই হচ্ছে নৌকা এবং ধানের শীষের প্রতিনিধি।” তার দাবি, এলাকার উন্নয়ন ও ভোটারদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে তিনি এই জনপদে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
ভোটারদের প্রতি আবেগী আহ্বান
নিজ এলাকার ভোটারদের উদ্দেশে নুর বলেন, এলাকার সন্তান হিসেবে তিনি ভোটারদের পাশে চান। “আপনারা যদি পাশে থাকেন, ইনশাআল্লাহ আমরা বিজয়ী হব”—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ডাকসু নির্বাচনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়া ডাকসু নির্বাচনে মাত্র কয়েকজন কর্মী নিয়ে শুরু করলেও ১১ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে তিনি আশা প্রকাশ করেন, গলাচিপা-দশমিনায় ট্রাক প্রতীক আবারও একটি বিজয়ের ইতিহাস তৈরি করবে।
‘এলাকার সন্তান’ হিসেবে সমর্থন চাইলেন
নুরুল হক নুর বলেন, তিনি পটুয়াখালীর সন্তান হিসেবে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে নতুন একটি ইতিহাস গড়তে চান। ভাই, বন্ধু ও তরুণ প্রার্থী হিসেবে তার প্রতি সমর্থন প্রত্যাশা করেন তিনি।
তার বক্তব্যে তরুণ ভোটারদের প্রতি বিশেষ আহ্বান ছিল। তিনি বলেন, তরুণদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং উন্নয়নমুখী রাজনীতির জন্য এই নির্বাচনে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন
উল্লেখ্য, পটুয়াখালী-৩ আসনে নুরুল হক নুরের ট্রাক প্রতীকের সঙ্গে ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী মো. হাসান মামুন নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য।
নুরের বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ায় মো. হাসান মামুনকে কেন্দ্রীয় বিএনপি বহিষ্কার করেছে। একই সঙ্গে নুরের পক্ষে কাজ না করায় বিএনপির তিনটি স্থানীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে, যা এই আসনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নৌকা ও ধানের শীষ না থাকায় এই আসনে প্রতীকভিত্তিক ভোটের হিসাব নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। এর ফলে ট্রাক প্রতীক কতটা ভোট টানতে পারে, সেটিই এখন এই আসনের মূল আলোচ্য বিষয়।
Source: Based on reporting from Dhaka Post
