ইরানের বিক্ষোভে প্রায় দুই হাজার জন নিহত:সরকারি কর্মকর্তার দাবি
ঢাকা — ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও দমন-পীড়নের মধ্যে অন্তত **প্রায় ২,০০০ জন নিহত** হয়েছে বলে প্রথমবারের মতো স্বমহিমায় একটি সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছে, যদিও নিরপেক্ষ গ্রুপ ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের হিসাব অনেক কম। এই মন্তব্য মঙ্গলবার দেওয়া হয়, যা ইরানের সাম্প্রতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মৃত্যু সংখ্যা নিয়ে নতুন বিতর্ক আরোপ করেছে। 0
সরকারের দাবি ও ব্যাখ্যা
একজন ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, গত দুই সপ্তাহের বিক্ষোভে অন্তত ২,০০০ জন নিহত হয়েছে। তিনি নিহতদের মধ্যে “সন্ত্রাসবাদে সংশ্লিষ্ট” লোকজন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরও রয়েছে বলে দাবি করেছেন। তবে তিনি নির্দিষ্টভাবে কোন অংশে কত মানুষ মারা গেছেন বা তাদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি। 1
ইরান সরকার এই মৃত্যুর কারণকে “সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম” ও সহিংসতায় জড়িততা হিসেবে উপস্থাপন করে, দাবি করেছে যে পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাদের পদক্ষেপ “আইনি সীমানার মধ্যে” ছিল। তথ্যে সরাসরি নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। 2
মানবাধিকারের সংগঠন ও স্বাধীন হিসাব
সরকারি দাবির বিপরীতে স্বাধীন মানবাধিকার সংগঠনগুলো অনেক কম সংখ্যা বলেছে। নরওয়ে ভিত্তিক **ইরান হিউম্যান রাইটস (IHR)** সম্প্রতি অন্তত **৬৪৮ জন নিহত** হিসাব করেছে, যেখানে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো ও নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতায় প্রাণ হারানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 3
আরেকটি মানবাধিকারের সংগঠন **Human Rights Activists News Agency (HRANA)** বলেছে, দেশজুড়ে সহিংসতা এবং দমন-পীড়নের কারণে **৫০০-এরও বেশি মানুষ নিহত** হয়েছে এবং **১০,৬০০’র বেশি লোক গ্রেপ্তার** হয়েছে। তবে তাদের মতে ওই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে কারণ ইরানে ইন্টারনেট ও তথ্য প্রবাহে ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ চালানো হচ্ছে। 4
মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক
ইরানের সরকারি দাবির সাথে মানবাধিকার গ্রুপ ও স্বাধীন রিপোর্টগুলোতে উল্লেখিত সংখ্যা মিল নেই। স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের মতে, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ও সংবাদ মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের কারণে মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন হচ্ছে। কিছু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ইঙ্গিত দেয়, যদিও শত শত বা সহস্রাধিক নিহতের অভিযোগ উঠেছে, কিন্তু সরকারিভাবে এই পরিসংখ্যান স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা হয়নি। 5
প্রেক্ষাপট: বিক্ষোভের কারণ ও প্রভাব
ইরানের বিক্ষোভগুলো মূলত শুরু হয়েছিল **অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রার পতন, এবং মূল্যস্ফীতি**র কারণে, যা দ্রুত সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক সরকারের বিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। এই বিক্ষোভগুলোতে পারস্পরিক সংঘর্ষ, বলপ্রয়োগ ও বৃহৎ জনসমাবেশের কারণে দেশের বিভিন্ন শহরে পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে উত্তপ্ত। 6
সরকার বিক্ষোভকারীদের কিছু অংশকে “বিদেশি ষড়যন্ত্র” বা “সন্ত্রাসবাদ” হিসাবে চিহ্নিত করেছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই দাবির বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে এবং বলেছে যে সরকার দমন-পীড়নে অতিরিক্ত ও জানমালের অভাবে বদনীতি ব্যবহার করছে। 7
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ
ইরানে বিক্ষোভ ও সহিংসতায় মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে অভিযোগের পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা ইরানের পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন এবং মানবাধিকার রক্ষা ও বিনা শর্তে সহিংসতা বন্ধে আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি ইরানের সরকার ও বিরোধী পক্ষের প্রতি চাপ সৃষ্টি করার জন্য বিভিন্ন ধারার নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা ভাবা হচ্ছে। 8
উপসংহার
ইরানের বিক্ষোভের মধ্যে নিহত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে অপরিকল্পিত মানবিক সংকটে পরিণত হচ্ছে। সরকারি পক্ষের দাবি ও স্বাধীন হিসাবের মধ্যে প্রভূত পার্থক্য থাকায় সঠিক পরিসংখ্যান অজানা থেকে যাচ্ছে, কিন্তু হাজার হাজার প্রাণহানির ঘটনা ইতোমধ্যেই দেশটির সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক মনিটরিং ও স্বচ্ছতা অর্জনের দাবি বাড়ছে যেন পরিস্থিতির প্রকৃত পরিধি বোঝা যায় এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করা যায়।
