আলেপ্পোয় সিরীয় বাহিনী-এসডিএফের পাল্টাপাল্টি হামলা, নিহত ৬
যুদ্ধবিরতি ভেঙে আলেপ্পোতে ফের সংঘর্ষ, নিহত ২৮
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও আলেপ্পোতে সিরীয় বাহিনী ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্স (এসডিএফ)-এর পাল্টাপাল্টি হামলায় একদিনে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৭০ জন। এতে গত কয়েকদিনের সংঘাতে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ জনে, আর আহত ছাড়িয়েছে দুই শতাধিক।
উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোতে গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সিরিয়ার সেনাবাহিনী ও এসডিএফ যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এসডিএফকে রাষ্ট্রীয় বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পরই এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে।
তিনদিনের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর সংঘাত বন্ধে সম্মত হয় সিরীয় সরকার। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা প্রশাসন এসডিএফের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয় এবং সন্ধ্যার মধ্যে এলাকা ছাড়ার আল্টিমেটাম দেয়। তবে যুদ্ধবিরতি মেনে সেনা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানায় এসডিএফ। এরপরই ফের হামলা জোরদার করে সরকারি বাহিনী।
সিরিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এসডিএফের হামলায় শতাধিক মানুষ হতাহত হয়েছেন, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। যদিও বেসামরিক এলাকায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এসডিএফ।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) আলেপ্পোয় ড্রোন হামলা চালায় এসডিএফ। একটি ড্রোন আলেপ্পোর গভর্নরেট ভবনে আঘাত হানে। সিরীয় সেনাবাহিনীর দাবি, এসডিএফ ইরানে তৈরি ড্রোন ব্যবহার করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব হামলাকে ‘সন্ত্রাসী তৎপরতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
এদিকে শেখ মাকসুদ এলাকায় সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিতের ঘোষণা দেয় সিরীয় বাহিনী। শনিবার বিকেল তিনটা থেকে নতুন করে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়। সরকারি বাহিনীর দাবি, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে।
সরকারি সূত্র জানায়, শেখ মাকসুদ এলাকায় বহু এসডিএফ যোদ্ধা আত্মসমর্পণ করেছে এবং তাদের বাসে করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তাবকাহ শহরে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু বেসামরিক পরিবারকেও এলাকা ছাড়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
তবে এসডিএফ এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের বক্তব্য, বাসে করে যাদের নেওয়া হয়েছে তারা যোদ্ধা নন, বরং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত বেসামরিক মানুষ। এখনো কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ চলছে বলে জানিয়েছে সরকার।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাক সংঘর্ষ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সহিংসতা চলমান সমন্বয় চুক্তিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ সহজ করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, এর আগে মার্চ মাসে এসডিএফকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার একটি চুক্তি হয়েছিল। সরকার বলছে, সেই চুক্তির শর্ত এখনো মানা হয়নি এবং এসডিএফ চুক্তি অনুযায়ী এলাকা ছাড়েনি। বরং ওই এলাকাকে হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। সরকার সেখানে নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
