৭ জানুয়ারির পর সরকার পতনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ইনকিলাব মঞ্চের
শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে রাজপথে নেমে এবার সরাসরি সরকার পতনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে হত্যার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত করে পূর্ণাঙ্গ চার্জশিট দাখিল না করা হলে দেশব্যাপী একদফা সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
শাহবাগে বিক্ষোভ, কঠোর আল্টিমেটাম
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এই ঘোষণা দেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি শাহবাগে এসে সমাবেশে রূপ নেয়। এতে শিক্ষার্থী, তরুণ ও সাধারণ মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন অংশ নেন।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে শাহবাগ এলাকা। ‘বইলা গেছে হাদি ভাই, আমার খুনের বিচার চাই’ এবং ‘আপস না বিপ্লব, বিপ্লব বিপ্লব’—এমন স্লোগানে আন্দোলনকারীরা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিক্ষোভ চলাকালীন জনদুর্ভোগ এড়াতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয় বলে জানান আয়োজকরা।
পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, শরিফ ওসমান হাদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার দাবি, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বিদেশি সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের কারণেই তাকে টার্গেট করা হয়।
তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ২১ দিন পার হলেও প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এটি সরকারের সদিচ্ছার অভাবকেই স্পষ্ট করে। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে যদি শুধু একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নামমাত্র চার্জশিট দেওয়া হয়, তবে তা ইনকিলাব মঞ্চ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি কড়া বার্তা
সমাবেশ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিও কঠোর বার্তা দেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা। আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো ধরনের গোপন সমঝোতা চলবে না। বিশেষ করে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে পর্দার আড়ালে বৈঠক মেনে নেওয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তার ভাষায়, “এই দেশ কারো কাছে ইজারা দেওয়া হয়নি। দেশের স্বার্থে প্রয়োজনে রাজপথে থেকেই লড়াই চালিয়ে যাবে ইনকিলাব মঞ্চ।” তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচন পর্যন্ত রাষ্ট্র পাহারা দেবে আন্দোলনকারীরা এবং হাদি হত্যার বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ছাত্র-জনতা রাজপথ ছাড়বে না।
আন্দোলনের নতুন ধাপের ইঙ্গিত
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা জানান, এটি কেবল শুরু। শহীদ হাদির দেখানো পথেই সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার শপথ নেন তারা। আগামী দিনে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়।
Source: তথ্যসূত্রের আলোকে পুনর্লিখিত (RTV News)
