‘হ্যাঁ’ ভোটের সাথে বিসমিল্লাহ থাকা না থাকার কোনো সম্পর্ক নেই: ধর্ম উপদেষ্টা

‘হ্যাঁ’ ভোটের সঙ্গে বিসমিল্লাহ থাকার প্রশ্ন নেই: ধর্ম উপদেষ্টা

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সঙ্গে সংবিধানে বিসমিল্লাহ থাকার বা না থাকার কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, ইসলাম ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তুলে ধরে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।

সোমবার বিকেলে মৌলভীবাজার শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা কার্যক্রম উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা ও ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, সংবিধানের প্রস্তাবনায় বিসমিল্লাহ যেমন আছে, তেমনি তা ভবিষ্যতেও বহাল থাকবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে ইসলাম বা আল্লাহর অস্তিত্ব থাকবে না—এ ধরনের বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তার মতে, রাষ্ট্রধর্ম বা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত।

জুলাই সনদ ও কাঠামোগত সংস্কার

ড. খালিদ হোসেন বলেন, জুলাই সনদে যেসব সংস্কারের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো সংবিধানের সঙ্গে যুক্ত হবে। তবে বিদ্যমান সংবিধানের অন্যান্য মৌলিক বিষয় যথাযথভাবে বহাল থাকবে।

তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনার সুযোগ তৈরি হবে এবং এই পরিবর্তনের বিষয়টি আগে নিজেকে বুঝতে হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন

ধর্ম উপদেষ্টা জানান, প্রস্তাবিত সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। তার ভাষায়, নির্বাচনের আগের পর্যায়ে একটি গ্রহণযোগ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে কমিশনের স্বাধীনতা ও গ্রহণযোগ্যতা অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রেও বিরোধী দলের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।

সভায় উপস্থিত বক্তারা

জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাবেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তানভীর আহমেদ, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দীপক কুমার রায় এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক ফারুক আলম।

সভায় মৌলভীবাজার জেলার সাত উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

স্থান: মৌলভীবাজার
সময়: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

Next Post Previous Post

Advertisement