চট্টগ্রামে র্যাব কর্মকর্তা নিহত : দুদিনেও হয়নি মামলা-গ্রেপ্তার
চট্টগ্রাম, সীতাকুণ্ড, র্যাব কর্মকর্তা হত্যা, মামলা গ্রেপ্তার, সশস্ত্র সন্ত্রাস—চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাবের উপসহকারী পরিচালক মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হওয়ার ঘটনাকে দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও মামলা হয়নি এবং কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। পুলিশ বলছে, মামলার প্রক্রিয়া চলছে এবং গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
রবিবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় কোনো মামলা হয়নি। একই ঘটনায় র্যাবের আরও তিন সদস্য ও ‘মনা’ নামে একজন সোর্স গুরুতর আহত হন।
হামলার সময় কী ঘটেছিল?
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযান চলাকালে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় স্থানীয় ইয়াসিনের নেতৃত্বে একটি বিএনপি কার্যালয় উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। ইয়াসিন সেখানে উপস্থিত থাকবেন— এমন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের একটি দল ওই এলাকায় যায়।
পৌনে চারটার দিকে র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ইয়াসিন গ্রুপের অনুসারীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা র্যাবের চার সদস্য ও সোর্স মনাকে আটকে রেখে তাদের অস্ত্র ছিনিয়ে নেয় এবং বেধড়ক মারধর করে। পরে সীতাকুণ্ড থানা-পুলিশ স্থানীয় একটি পক্ষের সহায়তায় গুরুতর আহত অবস্থায় পাঁচজনকে উদ্ধার করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক মোতালেব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
অভিযান এলাকাটি কেন সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত?
সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকা দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় দখল, অবৈধ বসতি ও প্লট বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের আধিপত্যের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সরকারি খাসজমির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেখানে হাজার কোটি টাকার সংঘর্ষের ইতিহাস রয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে এই সহিংসতার মূল মঞ্চে আছে ইয়াসিন ও রুকন নামের দুই প্রভাবশালী গ্রুপের লড়াই। একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা ইয়াসিন বর্তমানে বিএনপির পরিচয়ে এলাকায় সক্রিয়। অন্যদিকে রুকন উদ্দিন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের বহিষ্কৃত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সীতাকুণ্ড এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন। মূলত বিএনপি কার্যালয় উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যার ফলস্বরূপ একজন র্যাব কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, “মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
অপরাধ তদন্ত ও ভবিষ্যৎ ব্যবস্থা
র্যাব ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সংঘর্ষের মূল কারণ শনাক্ত করতে কাজ করছে। পাশাপাশি এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান বাড়ানো হতে পারে। তবে স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, সশস্ত্র গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে কড়া আইনগত ব্যবস্থা ছাড়া জঙ্গলের অবৈধ দখল ও সহিংসতা বন্ধ করা কঠিন।
এ ঘটনার পরও সীতাকুণ্ডে শান্তি ফেরাতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে—এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
Source: Based on reporting from Dhaka Post
