আ. লীগ ও এনসিপির শতাধিক নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগদান করেছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এই যোগদানকে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে শক্তি বিন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবার দাউদকান্দি পৌর সদরের বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তারা বিএনপিতে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে দলীয় পতাকা ও প্রতীক তুলে দিয়ে নতুন সদস্যদের স্বাগত জানানো হয়।
নেতৃত্বে ছিলেন এনসিপি ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা
এই যোগদান কর্মসূচিতে এনসিপির দাউদকান্দি পৌরসভার প্রধান সমন্বয়ক মো. মোহসিন ভূঁইয়া এবং আওয়ামী লীগ নেতা মো. সাকিব আহমেদের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা বিএনপিতে অন্তর্ভুক্ত হন। তাঁদের সঙ্গে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিট পর্যায়ের কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
নেতাকর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালালেও বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারা নতুন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। বিএনপির নেতৃত্ব ও কর্মসূচির প্রতি আস্থা থেকেই এই যোগদান বলে জানান তারা।
গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা
যোগদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মো. মোহসিন ভূঁইয়া ও মো. সাকিব আহমেদ বলেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন তাদের এই সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করেছে। তারা বলেন, ধানের শীষ প্রতীকের প্রতি আস্থা রেখেই বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
তাদের মতে, বিএনপির নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক ও জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরবে। এই প্রত্যাশা থেকেই তারা দলীয় অবস্থান পরিবর্তন করেছেন বলে জানান।
বিএনপির নেতাদের বক্তব্য
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে নেতাকর্মীদের বিএনপিতে যোগদান প্রমাণ করে যে, জনগণের মধ্যে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের প্রশ্নে একটি পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপি একটি বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে এবং এই আন্দোলনে নতুন সদস্যদের অংশগ্রহণ দলকে আরও শক্তিশালী করবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় নেতারা
দাউদকান্দি পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই যোগদান অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সওগাত চৌধুরী পিটার, যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর মোস্তাক সরকার, সদস্য সচিব কাউসার আলম সরকার।
এছাড়া পৌর যুবদলের আহ্বায়ক শরীফ চৌধুরী, দাউদকান্দি উপজেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন, ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মোস্তফা সরকার, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রোমান খন্দকার এবং পৌর জাসাসের আহ্বায়ক মোল্লা সোহেলসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দাউদকান্দির মতো এলাকায় দলবদল ও নতুন যোগদান স্থানীয় নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের অবস্থান পরিবর্তন ভোটের হিসাব-নিকাশে নতুন মাত্রা যোগ করে।
তবে এই যোগদানের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং ভোটারদের প্রতিক্রিয়ার ওপর। আপাতত ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
Source: Based on reporting from local news sources.
