তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে চীনের সম্মতির অপেক্ষায় বাংলাদেশ

উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার প্রত্যাশিত “তিস্তা মহাপরিকল্পনা” বাস্তবায়নে চীনের আনুষ্ঠানিক সম্মতি আসার অপেক্ষায় আছে বাংলাদেশ। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র ইতোমধ্যে চীনা সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং অর্থায়ন সংক্রান্ত চূড়ান্ত আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।

নীলফামারীর একটি মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, চীনা সরকারের একটি বিশেষজ্ঞ দল প্রকল্পটির কারিগরি, আর্থিক ও বাস্তবায়ন কাঠামো যাচাই করছে। যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হলে চূড়ান্ত সম্মতি মিললে দেশের সবচেয়ে বড় এই উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।

কেন তিস্তা মহাপরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ?

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি, সেচব্যবস্থা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “এটি শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথ খুলে দেবে।”

উত্তরাঞ্চল বাংলাদেশের কৃষি নির্ভর অঞ্চলের অন্যতম অংশ। এখানে বন্যা, খরাব্যবস্থা এবং সেচ সমস্যা দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষতির কারণ হিসেবে কাজ করছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নদীর পানি নিয়ন্ত্রণ ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

চীনের ভূমিকা ও প্রক্রিয়া

প্রকল্পটির জন্য চীনের অর্থায়ন ও প্রযুক্তি সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীনা বিশেষজ্ঞ দল প্রকল্পের বিস্তারিত মূল্যায়ন করছে এবং বাংলাদেশ থেকে পাঠানো নথিপত্র যাচাই করছে। বাংলাদেশের দফতরীয় সূত্র বলছে, চূড়ান্ত সম্মতি পেলে প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হবে এবং তার পরই নির্মাণ, সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের কাজ ধাপে ধাপে শুরু হবে।

এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য চীনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে দেশের উত্তরাঞ্চলের জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: নির্বাচন ও জনগণের ভূমিকা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব শুধুমাত্র অন্তর্বর্তী সরকারের নয়, জনগণের অংশগ্রহণ ও সচেতন ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ভোটারদের ঐক্যবদ্ধভাবে অংশগ্রহণ করলে দেশ একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার দিকে এগোবে।

নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) আবু জাফর উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় দেশব্যাপী প্রচারণামূলক কার্যক্রম চলছে।

উপসংহার

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চীনের সম্মতি একটি নির্ধারণক মুহূর্ত। প্রকল্পটি শুরু হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে এখন অপেক্ষা প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদনের, যাতে বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজ দ্রুত এগিয়ে যায় এবং স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনে।

Source: Based on reporting from আমার দেশ অনলাইন

Next Post Previous Post

Advertisement