নির্বাচনে ভোটগণনা বিলম্বিত হতে পারে: প্রেস সচিব
জাতীয় সংসদ নির্বাচন, গণভোট, ভোটগণনা বিলম্ব, অন্তর্বর্তী সরকার—আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট গণনা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। একই দিনে সংসদ নির্বাচনের ব্যালট এবং গণভোটের ব্যালট গণনা করতে হওয়ায় ভোটকেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। প্রেস সচিব বলেন, নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে আয়োজনের ফলে প্রক্রিয়াগত কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও সরকার বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বৈঠকে ভোটগণনা নিয়ে আলোচনা
প্রেস সচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর আগে একই দিন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক বৈঠকে ভোটগণনা প্রসঙ্গটি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে জানানো হয়, একটি ভোটকেন্দ্রেই দুই ধরনের ব্যালট ব্যবহৃত হবে। ফলে ভোটগ্রহণ শেষে গণনার সময় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সতর্কতা ও সময় প্রয়োজন হবে। নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে এই বিলম্ব যতটা সম্ভব কমিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
স্বচ্ছতা ও সঠিক ফল নিশ্চিত করাই অগ্রাধিকার
শফিকুল আলম বলেন, ভোটগণনায় সময় কিছুটা বেশি লাগলেও ফল ঘোষণার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তাঁর ভাষায়, “ভোটারদের ভোট সঠিকভাবে গণনা হওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে যদি কিছুটা সময় বেশি লাগে, সেটিকে স্বাভাবিকভাবেই দেখতে হবে।”
তিনি আরও জানান, ভোটকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত জনবল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে, যাতে গণনা প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়। একই সঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ভোটারদের জন্য কী বার্তা দিচ্ছে প্রশাসন
বিশ্লেষকদের মতে, ভোটগণনায় বিলম্বের সম্ভাবনার বিষয়টি আগেই জানানো হলে ভোটারদের মধ্যে অযথা উদ্বেগ কমে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে, বিলম্ব মানেই অনিয়ম নয়; বরং দ্বৈত ব্যালট গণনার কারণে সময় বেশি লাগতে পারে।
বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় একসঙ্গে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন একটি তুলনামূলক নতুন অভিজ্ঞতা। ফলে মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক সক্ষমতা, ভোটকর্মীদের দক্ষতা এবং প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষকেরা।
আগামী দিনের প্রস্তুতি
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ভোটের দিন ও পরবর্তী সময়ে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং জোরদার করা হবে। প্রয়োজনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
সরকার আশা করছে, সব ধরনের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণে নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় হবে।
Source: Based on reporting from JagoNews24
