ইরানে ব্যবহারের জন্য গোপন ও সামরিক বিকল্প নিয়ে অবহিত ট্রাম্প

ঢাকা — মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে **গোপন ও সামরিক বিকল্পগুলি (strong options)** সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়েছে, এবং যুক্তরাষ্ট্র এই সব বিকল্পের উপর গুরুত্ব সহকারে চিন্তাভাবনা করছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ও সামরিক এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তারা একাধিক সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনা করছেন, যার মধ্যে কিছু সুস্পষ্ট সামরিক পদক্ষেপও রয়েছে। 0

‘কঠোর বিকল্প’ হিসেবে কি চিন্তা করা হচ্ছে?

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও প্রশাসনিক পরামর্শদাতারা ট্রাম্পকে বিভিন্ন সম্ভাব্য বিকল্প — সামরিক আক্রমণ, বেসামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনা লক্ষ্য করা, এবং ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার মতো ‘গোপন উদ্যোগ’ সম্পর্কে ব্রিফ করেছেন বলেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। তবে কোন সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্তভাবে নেওয়া হয়নি। 1

ট্রাম্প নিজেও বলেছেন যে তাঁর প্রশাসন “খুব শক্ত বিকল্প” বিবেচনা করছে এবং ইরানের ওপর সম্ভাব্য পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সব দিক যাচাই করা হচ্ছে। তিনি ইরান সরকারকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন, বিশেষ করে বিক্ষোভকারীদের প্রতি ক্ষমতার প্রয়োগ অব্যাহত থাকলে কঠিন প্রতিক্রিয়া দেখানো হতে পারে। 2

সামরিক সম্ভাবনা ও জনমানুষের প্রতিক্রিয়া

সৌরভভাবে বিবেচিত সামরিক অপশনের মধ্যে রয়েছে বিমান হামলা বা কোনো নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ, যদিও মার্কিন প্রশাসন নানা ঝুঁকি-সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন যে প্রেসিডেন্ট এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি এবং সামরিক হস্তক্ষেপের ফলে কি বিপর্যয় বা আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে তা বিবেচনা করছে। 3

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও বিক্ষোভ দমনায়নের কারণে পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। সামরিক অপশন থাকলেও তা বাস্তবায়ন করলে তা মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বব্যাপী ন্যূনতম পরিমাণ অস্থিতিশীলতার কারণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসন সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে নিচ্ছে। 4

ট্রাম্পের কূটনৈতিক অবস্থান ও চাপ

ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক বিকল্পগুলো নিয়ে ভাবার পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালানোর দিকেও ফিরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে। প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে উল্লেখ ছিল, ইরান থেকেই একটি নরম যোগাযোগের প্রস্তাব এসেছে, যদিও তাতে বৈঠক স্থগিত হওয়ারও ইঙ্গিত রয়েছে সহিংসতার কারণে। 5

ইরানের সরকারের প্রতিক্রিয়া কঠোর; দেশটি বারবার বলেছেন যে তারা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত এবং বাহ্যিক হস্তক্ষেপকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এ ধরনের অবস্থান সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কঠিন সিদ্ধান্তের সামনে জটিলতা তৈরি করছে। 6

উপসংহার

ট্রাম্প প্রশাসন ইরান পরিস্থিতি মোকাবেলায় কেবল বরাবরের মতো কূটনৈতিক চাপ নয় বরং **সামরিক ও গোপন বিকল্প** সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করছে, কিন্তু এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে সম্ভাব্য ঝুঁকি, আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করতে চাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনো উভয় পক্ষকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে আহ্বান জানাচ্ছে।

Next Post Previous Post

Advertisement