চট্টগ্রামে উন্নয়ন ও পরিবর্তনের রূপরেখা দিলেন তারেক রহমান
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর চট্টগ্রামের মাটিতে ফিরে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে একটি বিস্তৃত ও সমন্বিত রূপরেখা উপস্থাপন করেছেন। রোববার নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত মহাসমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে কৃষি ও শিল্পায়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন এবং পরিবেশ সুরক্ষার মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিএনপির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। মাঠ ও আশপাশের এলাকা সকাল থেকেই ব্যানার-ফেস্টুনে ভরে ওঠে। দুপুরের দিকে উত্তাল জনতার সামনে বক্তব্য শুরু করেন তারেক রহমান, যা নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে।
চট্টগ্রামের সঙ্গে ঐতিহাসিক ও আবেগী সম্পর্ক
বক্তব্যের শুরুতে তারেক রহমান চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এই চট্টগ্রাম থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং এখানেই তিনি শাহাদাতবরণ করেন। একই শহরে বেগম খালেদা জিয়াকে ‘দেশনেত্রী’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল। তার ভাষায়, চট্টগ্রামের সঙ্গে তার ও তার পরিবারের গভীর আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে যেমন স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, তেমনি সাম্প্রতিক গণআন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ আবারও দেশকে রক্ষা করেছে। মানুষের প্রত্যাশা এখন বাস্তব পরিবর্তন—যেখানে শিক্ষা, চিকিৎসা ও ন্যায্য জীবনের সুযোগ নিশ্চিত হবে।
দ্রব্যমূল্য, কৃষি ও জলাবদ্ধতা নিরসনের পরিকল্পনা
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, উৎপাদন না বাড়ালে বাজার স্থিতিশীল করা সম্ভব নয়। এ জন্য কৃষকদের কাছে ‘কৃষক কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি, যাতে তারা সহজে রাষ্ট্রীয় সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা পান।
চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, খাল ও নালা দখল ও ভরাটের কারণেই নগরী পানিতে ডুবে থাকে। বিএনপি পরিকল্পিতভাবে খাল খননের উদ্যোগ নেবে। সকালে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, চট্টগ্রামসহ দেশব্যাপী জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে।
শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও বাণিজ্যিক রাজধানীর লক্ষ্য
শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, চট্টগ্রামে গড়ে ওঠা একাধিক ইপিজেডে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা বিএনপির শাসনামলেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আগামী দিনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে আরও নতুন ইপিজেড স্থাপনের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি দমন ও পরিবেশ সুরক্ষা
নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। অতীতে বিএনপি সরকারের সময়ে দলের কেউ অন্যায় করলেও ছাড় দেওয়া হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি। ভবিষ্যতেও আইনশৃঙ্খলা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে আশ্বাস দেন।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে। বেগম খালেদা জিয়ার সময় দুর্নীতি দমনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও দুর্নীতিবাজদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
পরিবেশ রক্ষায় তিনি পাঁচ বছরে ৫০ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানান। বায়ুদূষণ মোকাবিলায় দেশব্যাপী নার্সারির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তরুণ সমাজকে সামনে রেখে পরিকল্পনা
তরুণ উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ব্যাংক ঋণ পেতে বিদ্যমান জটিলতা কমানো হবে। একই সঙ্গে বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ‘স্টুডেন্ট লোন’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তার মতে, তরুণদের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে দেশ এগিয়ে যাবে।
সমাবেশের শেষে তিনি আগামী নির্বাচনে বিএনপির প্রতি আস্থা রেখে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং ভোটের দিন শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের অনুরোধ করেন।
Source: Based on reporting from DhakaPost.
