মাদুরোকে আটকের সময় কিউবার ৩২ সেনা ও গোয়েন্দাকে হত্যা করেছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক—ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে কিউবার সশস্ত্র বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার অন্তত ৩২ জন সদস্য নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে কিউবা। সোমবার (৫ জানুয়ারি) দেশটির সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য প্রকাশ করে।

কিউবার দাবি অনুযায়ী, গত ৩ জানুয়ারি মধ্যরাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একটি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর বিশেষ ইউনিট ডেল্টা ফোর্স প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়। এ অভিযানের সময় প্রাণ হারান কিউবার ওই সেনা ও গোয়েন্দা সদস্যরা।

রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা কিউবার

৩২ জন সেনা ও গোয়েন্দা সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় কিউবা দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। দেশটির সরকার ধারণা করছে, নিহতরা ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট মাদুরোর নিরাপত্তা দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন এবং অভিযানের সময় সরাসরি হামলার শিকার হন।

এক বিবৃতিতে কিউবার সরকার জানায়, “আমাদের দেশপ্রেমিকরা দায়িত্ব পালনের সময় নিষ্ঠা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তারা তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ে অংশ নেন এবং সেই লড়াইয়েই প্রাণ হারান।”

ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠ মিত্র কিউবা

কিউবা দীর্ঘদিন ধরেই ভেনেজুয়েলার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক মিত্র। নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তার নিরাপত্তায় কিউবার সেনা ও গোয়েন্দা সদস্যদের ভূমিকার কথা বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওই অভিযানের সময় মোট কতজন কিউবার সেনা ও গোয়েন্দা সদস্য মাদুরোর নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দেয়নি হাভানা।

এছাড়া ভেনেজুয়েলার অন্য কোনো এলাকায় একই অভিযানের ফলে কিউবার সেনাদের প্রাণহানি ঘটেছে কি না, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছে কিউবা।

নিহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য

ভেনেজুয়েলা সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি ওইদিনের মার্কিন অভিযানে মোট কতজন নিহত হয়েছেন। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভেনেজুয়েলান কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, অভিযানে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সামরিক সদস্যদের পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

মাদুরোকে আটক করার পর ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানের আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এবং কিউবা–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে।

Next Post Previous Post

Advertisement