ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে হাদির পরিবার, ১ কোটি টাকা বরাদ্দ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদির পরিবারের পুনর্বাসনে এক কোটি টাকা বিশেষ অনুদান অনুমোদন করেছে সরকার। রাজধানীর লালমাটিয়ায় অবস্থিত সরকারি দোয়েল টাওয়ারে একটি আবাসিক ফ্ল্যাট কেনা ও তা সুসজ্জিত করার লক্ষ্যে এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বরাদ্দটি মানবিক বিবেচনা ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে দেওয়া হচ্ছে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এই অর্থ ছাড়ের অনুমোদন দেয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১২১৫ বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাট কেনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ও আনুষঙ্গিক ব্যয় এই বরাদ্দ থেকে মেটানো হবে।
পরিচয় যাচাই সাপেক্ষে ফ্ল্যাট হস্তান্তর
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফ্ল্যাট হস্তান্তরের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। শরীফ ওসমান বিন হাদির স্ত্রী ও সন্তানের পরিচয় এবং পারিবারিক সম্পর্ক যথাযথভাবে যাচাই ও নিশ্চিত হওয়ার পরই ফ্ল্যাট হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা ও আইনগত নিশ্চয়তার জন্য এই যাচাই প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
গৃহায়ণ মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে ‘আবাসিক ভবন’ খাতে যে ছয় কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল, সেখান থেকেই হাদির পরিবারের জন্য এই এক কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। নতুন কোনো অতিরিক্ত বরাদ্দ এই ক্ষেত্রে নেওয়া হয়নি।
নির্বাচনী সহিংসতায় হাদির মৃত্যু
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন শরীফ ওসমান বিন হাদি। গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের উদ্দেশ্যে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গেলে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। হাদির মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং নির্বাচনী সহিংসতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন ওই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের দাবি তোলে।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা
হাদির মৃত্যুর পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, নিহত হাদির স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে। সরকারের সর্বশেষ এই বরাদ্দকে সেই ঘোষণার বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন নিহত পরিবারের জন্য আর্থিক ও আবাসন নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় রাষ্ট্রের দায় স্বীকারের বার্তাও দিচ্ছে। তবে একই সঙ্গে সরকারি অর্থ বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আগামীর করণীয়
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই শেষ হলে দ্রুত ফ্ল্যাট কেনা ও হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এ ছাড়া হাদির পরিবারের কল্যাণে ভবিষ্যতে আরও কোনো সহায়তা প্রয়োজন হলে তা বিবেচনায় নেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত এক রাজনৈতিক কর্মীর পরিবারের জন্য সরকারের এই পদক্ষেপ মানবিক সহায়তার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
Source: Based on reporting from Desh TV Online
