৬৫ বছর পর নতুন রূপে ঢাবির কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ
দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় পর সংস্কারের মাধ্যমে নতুন রূপ পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রয়োজনের কথা বিবেচনায় নিয়ে এই সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। সংস্কার শেষে মসজিদটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি ধর্মীয় স্থাপনায় রূপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার পর জুমার নামাজের পর মসজিদে উদ্বোধনী দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিতি
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান, প্রক্টর ড. সাইফুদ্দীন আহমদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
উপস্থিত বক্তারা মসজিদটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এটি শুধু একটি নামাজের স্থান নয়, বরং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ।
ডাকসুর তত্ত্বাবধানে সংস্কার কার্যক্রম
ডাকসুর নির্বাচিত সদস্য আনাস ইবনে মুনীর এবং ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট বিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম পুরো সংস্কার কার্যক্রমের সমন্বয় করেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে কয়েকজন দাতা আর্থিক সহায়তা দিলেও তারা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছেন।
ডাকসু নেতারা জানান, মসজিদ নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় ধরে বড় ধরনের কোনো সংস্কার না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই শিক্ষার্থীদের মৌলিক দাবি পূরণে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
যেসব উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে
সংস্কার প্রকল্পের আওতায় মসজিদে একাধিক আধুনিক সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ১১০ টন শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সংযোজন, উন্নত আলোকসজ্জা, নতুন দুটি অজুখানা নির্মাণ এবং পুরো মসজিদে নতুন কার্পেট স্থাপন।
এ ছাড়া দেয়াল নতুনভাবে রঙ করা হয়েছে এবং নারী শিক্ষার্থীদের নামাজের জন্য নির্ধারিত স্থানের আয়তন বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের মসজিদে যাতায়াত সহজ করতে আলাদা প্রবেশপথও তৈরি করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া
সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, নতুন সংস্কারের ফলে মসজিদে ইবাদতের পরিবেশ আরও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ হয়েছে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা নেওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তাদের মতে, এই সংস্কার উদ্যোগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মীয় অবকাঠামো উন্নয়নে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ক্যাম্পাসের অন্যতম প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা। সংস্কারের মাধ্যমে এর ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংযোজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশা, নতুন রূপে মসজিদটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের ধর্মীয় চাহিদা পূরণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
Source: Based on reporting from Desh TV Online
