শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিবের বাণী
শহীদ রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী
শহীদ জিয়া ছিলেন একজন স্বপ্নদ্রষ্টা রাষ্ট্রনায়ক। মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, মুক্তিযুদ্ধে জেড ফোর্সের অধিনায়ক, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দর্শণের প্রবক্তা ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ক শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-এর ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য জিয়াউর রহমানকে বীর উত্তম উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তিনি ছিলেন জীবদ্দশায় সকল ক্রান্তিকাল উত্তরণে অন্যতম দিশারী। রণনায়ক হিসেবে জিয়াউর রহমান ছিলেন দেশাবাসীর কাছে সমাদৃত ও সম্মানিত।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ হানাদার বাহিনীর নৃশংস গণহত্যার বিরুদ্ধে তিনি সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েই মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
দীর্ঘ ৯ মাস অসীম বীরত্বে দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য লড়াই চালিয়ে যান তিনি। স্বাধীনতার পর ক্ষমতাসীন মহল যখন মানুষের বাক-ব্যক্তি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করে গণতন্ত্রকে মাটিচাপা দেয় এবং দেশকে দুর্ভিক্ষের করালগ্রাসে ঠেলে দেয়— বাংলাদেশ যখন ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে— ঠিক সেই মহাসংকটকালে ৭ই নভেম্বর সৈনিক-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবে শহীদ জিয়া রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে অধিষ্ঠিত হন।
একজন সৈনিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও তার জীবনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল— দেশের প্রতিটি সংকটে তিনি ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ক্ষমতায় এসেই তিনি অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করেন।
উৎপাদনের রাজনীতির মাধ্যমে দেশকে স্বনির্ভর করে গড়ে তুলতে তিনি কৃষি বিপ্লব, গণশিক্ষা বিপ্লব ও শিল্প উৎপাদনের ওপর জোর দেন। সেচব্যবস্থা আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে স্বেচ্ছাশ্রম ও সরকারি সহায়তায় ১৪০০ খাল খনন ও পুনঃখনন করা হয়। গণশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষকে অক্ষরজ্ঞান প্রদান করা হয়।
তিনি গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠন করে গ্রামীণ শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করেন। পল্লী চিকিৎসক ব্যবস্থা চালু করে তার শাসনামলে প্রায় ২৭,৫০০ পল্লী চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়, যার ফলে গ্রামীণ জনগণের আধুনিক চিকিৎসাসেবায় প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি পায়।
শহীদ জিয়া ছিলেন একাধারে গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়ক। যেকোনো আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন আপসহীন ও নির্ভীক। স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে তিনি দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক জোট সার্ক প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হন, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা তাকে নিজেদের নীলনকশার পথে প্রধান অন্তরায় মনে করে নির্মমভাবে হত্যা করে। কিন্তু তার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে জনগণের মধ্যে দেশবিরোধী চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠে এক ইস্পাতকঠিন গণঐক্য।
দেশপ্রেম, সাহস, সততা, সহজ-সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপনের প্রতীক শহীদ জিয়াউর রহমানের অবদান এ দেশের ইতিহাসে অনন্য। মহৎ চরিত্র গঠনে তিনি একটি আদর্শ ও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। শহীদ জিয়ার বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী দর্শণেই আমাদের জাতিসত্তার প্রকৃত পরিচয় প্রতিফলিত হয়— যা আমাদের ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক জাতিসত্তাকে সুস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করে।
