প্রশাসন মোটেও কোনো পক্ষপাতিত্ব করবে না : অর্থ উপদেষ্টা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে প্রশাসন কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করবে না বলে আশ্বস্ত করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, নির্বাচনী মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কোনো ঘাটতি নেই এবং সরকার বা প্রশাসন কোনো প্রার্থীর সঙ্গে নয়, সরাসরি জনগণের সঙ্গেই কথা বলছে। সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই বর্তমান প্রশাসনের লক্ষ্য।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সভাটি স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “নির্বাচনে কোথাও লেভেল ফিল্ড প্লেয়িংয়ের অভাব নেই। আমরা কোনো প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলছি না। জনগণের সঙ্গে কথা বলছি, যাতে সবাই সমান সুযোগ পায়।” তাঁর মতে, নিরপেক্ষ প্রশাসনিক ভূমিকার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সময় প্রশাসনের দায়িত্ব হলো আইন অনুযায়ী সবার জন্য সমান পরিবেশ নিশ্চিত করা। কোনো প্রার্থী বা গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ছাত্রদলের কর্মসূচি ও ইসির এখতিয়ার
ছাত্রদলের নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি দেখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তিনি জানান, ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু হবে। এর পর কোনো সভা, সমাবেশ বা কর্মসূচি হলে তা নির্বাচন কমিশনের বিধি ও তত্ত্বাবধানের আওতায় পড়বে।
তার ভাষায়, নির্বাচনকালীন সময়ে সব রাজনৈতিক কার্যক্রম আইনের মধ্যে থেকেই পরিচালিত হতে হবে এবং প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনই ব্যবস্থা নেবে।
ভোটারদের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতার কথা
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশকে দ্রুত একটি ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে শুধু সরকার নয়, জনগণের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “আপনি যাকে ভোট দিয়েছেন, তিনি হোক বা অন্য কেউ, আপনার অধিকার সমানভাবে তাকে দিতে হবে।”
তিনি ভোটারদের ‘অডিটরের মতো’ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেমন অডিটর অর্থের হিসাব চায়, তেমনি জনগণ জনপ্রতিনিধিদের কাজ ও ব্যয়ের হিসাব চাইবে। এতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা বাড়বে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে।
তার মতে, এই জবাবদিহিতাই ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
সভায় উপস্থিত প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা
জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান (এনবিআর) আব্দুর রহমান খান, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবু তারেক, সদর উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর মেজর রাহাত খান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক জসীম উদ্দীন, রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাশিদ বিন এনাম এবং জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আব্দুর রশিদ।
বক্তারা সবাই নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং জনগণকে সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।
উপসংহার
লক্ষ্মীপুরে অর্থ উপদেষ্টার বক্তব্য প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে চলমান বিতর্কে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কার্যক্রম কতটা বিশ্বাসযোগ্যভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেটির ওপরই নির্ভর করবে ভোটারদের আস্থা এবং আসন্ন নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা।
Source: Based on reporting from dhaka-post
