১২ বছর ভাত না খেয়ে থাকা বিএনপি সমর্থক নিজাম মারা গেছেন
১২ বছর ভাত পরিহারের প্রতিজ্ঞা, নিজাম উদ্দিনের মৃত্যুতে এলাকায় শোক
বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত ভাত না খাওয়ার প্রতিজ্ঞা করা ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাসিন্দা নিজাম উদ্দিন (৪৫) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ৩১ মে থেকে দীর্ঘ ১১ বছর ৭ মাস ১০ দিন তিনি ভাত গ্রহণ করেননি। রাজনৈতিক বিশ্বাস থেকে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত তিনি অটল ছিলেন বলে জানান স্বজনরা।
প্রতিজ্ঞার পেছনের ঘটনা
পরিবার ও এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নিজ গ্রামে দোয়া ও খাবারের আয়োজন করা হয়। সে সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রান্না করা খাবার নষ্ট করে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মানসিকভাবে গভীরভাবে আঘাত পান নিজাম উদ্দিন।
এরপর তিনি ঘোষণা দেন—বিএনপি সরকার পুনরায় ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত তিনি ভাত মুখে তুলবেন না। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি দীর্ঘদিন কলা, রুটি, চিড়া ও অন্যান্য শুকনো খাবার গ্রহণ করে জীবনযাপন করেন।
পরিবারের বক্তব্য
নিজাম উদ্দিনের ছেলে শাহ আলম বলেন, “আমরা অনেকবার বাবাকে অনুরোধ করেছি ভাত খাওয়ার জন্য। কিন্তু তিনি বলতেন, প্রতিজ্ঞা ভাঙলে নিজের কাছে ছোট হয়ে যাব। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের সিদ্ধান্তেই অটল ছিলেন।”
চিকিৎসা ও শেষ সময়
পরিবার জানায়, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে নিজাম উদ্দিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিষয়টি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নজরে এলে তার নির্দেশনায় ফরিদপুর ও ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। চিকিৎসা শেষে তিনি কিছুটা সুস্থ হয়ে গ্রামে ফেরেন।
তবে পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
শোক ও প্রতিক্রিয়া
নিজাম উদ্দিনের মৃত্যুতে বাশবাড়িয়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার বাড়িতে রাজনৈতিক নেতাকর্মী, আত্মীয়স্বজন ও সাধারণ মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই তাকে রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও প্রতিজ্ঞার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করছেন।
মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, “নিজাম উদ্দিনের এই আত্মত্যাগ দলীয় ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা তার পরিবারের পাশে থাকব।”
নিজাম উদ্দিন মহেশপুর উপজেলার বাশবাড়িয়া গ্রামের মৃত নুরানি বকশ মন্ডলের ছেলে। পেশায় তিনি একজন কাঠমিস্ত্রি ছিলেন।
