একটা পক্ষ গোলামির বাংলাদেশ বানাতে চায়: আখতার হোসেন
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সদস্যসচিব ও রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী আখতার হোসেন বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে দুইটি পক্ষ স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। এক পক্ষ দুর্নীতিমুক্ত, আধিপত্যবিহীন বাংলাদেশ গড়তে চায়; অন্য পক্ষ “গোলামির বাংলাদেশ” প্রতিষ্ঠার পক্ষে। তিনি বলেন, এখন জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—আজাদির বাংলাদেশ নাকি গোলামির বাংলাদেশ।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রংপুরের ঐতিহাসিক পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে আয়োজিত ১০ দলীয় জোটের সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। সমাবেশে রংপুরের ছয়টি আসনের প্রার্থীসহ বিভিন্ন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন এবং বিকেল থেকে নেতাকর্মীরা মাঠে সমবেত হতে শুরু করেন।
স্বাধীনতার স্বপ্নকে “ফিকে” করার অভিযোগ
আখতার হোসেন বলেন, ৫ আগস্টের পরের সময়ে যে নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং শহিদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্য ছিল, সেটিকে ফিকে করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “সামনের নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশে দুটি পক্ষ হয়েছে—একটি পক্ষ সংস্কার ও বিচার চায়, আরেকটি পক্ষ সংস্কার ও বিচার চায় না।”
তিনি মনে করান, মুক্তিযুদ্ধের পরে দেশকে উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে যে পথচলা শুরু হয়েছিল, তা আজ “ভিন্ন ধারা”তে মোড় নিচ্ছে। তাই ভোটারদের কাছে তিনি “দেশের ভাগ্য নির্ধারণের” আহ্বান জানান।
রংপুরের উন্নয়ন বৈষম্য ও “দূর-দূরান্ত” অবস্থা
রংপুর অঞ্চলের মানুষেরা উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার—এই অভিযোগ তুলে আখতার হোসেন বলেন, এখানে শিল্প কলকারখানা নেই, ভালো চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই, এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দেশীয় মানও অর্জন করতে পারেনি। তিনি বলেন, “আমরা এতটাই অবহেলিত, আমাদের এখানে কোনো শিল্প কলকারখানা নেই। আমাদের এখানে মানুষ ভালো করে চিকিৎসা গ্রহণ করবে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই।”
তিনি ১০ দলীয় জোটের পক্ষে প্রতিশ্রুতি দেন, তারা ক্ষমতায় গেলে রংপুরের জন্য বিশেষ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন এবং বৈষম্য দূর করার জন্য কাজ করবেন। তাঁর বক্তব্যে স্থানীয় মানুষের মধ্যে সমর্থন বাড়ার লক্ষণ দেখা গেছে বলে সমাবেশে অংশ নেওয়া অনেকেই জানান।
ভারতের প্রভাব নিয়ে বক্তব্য
রংপুরের মানুষকে “দিল্লির আধিপত্যবাদ নীতির শিকার” হিসেবে উল্লেখ করে আখতার হোসেন বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে ন্যায্য ও সমান সম্পর্ক চাই। তবে তিনি সতর্ক করেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিবেশীর ভূমিকা নিয়ে যারা “খবরদারি” করতে চায়, তাদেরকে জনসাধারণকে বিদায় জানাতে হবে।
তিনি বলেন, “আমরা প্রতিবেশী পাল্টাতে চাই না। কিন্তু এই দেশের রাজনীতিতে প্রতিবেশীর বেশে যারা খবরদারি করতে চায়, তাদেরকে আমরা মাওলানা ভাসানীর সুরে ‘সালামের’ মতো করে বিদায় জানিয়ে দেবো।”
সমাবেশে অন্য বক্তারা ও অংশগ্রহণ
সমাবেশে রংপুরের ছয়টি আসনের প্রার্থীসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান। সমাবেশে বিকেল থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা সমবেত হন এবং জনসাধারণের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রংপুর অঞ্চলে এমন ধরনের রাজনৈতিক সমাবেশ ও “গোলামি বনাম স্বাধীনতা” রূপরেখা ভোটারদের মধ্যে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে যেখানে উন্নয়ন বৈষম্য ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে অভিযোগ আছে।
Source: Based on reporting from Jagonews24.
