ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুদ্ধ নয়, আমাদের লড়াই মাদকচক্রের বিরুদ্ধে: ট্রাম্প
ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়, অপরাধীদের বিরুদ্ধেই অভিযান: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ চালাচ্ছে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন মূলত মাদক ব্যবসায়ী ও সংঘবদ্ধ অপরাধীদের বিরুদ্ধেই লড়াই করছে।
ট্রাম্পের দাবি, ভেনেজুয়েলা তাদের কারাগার থেকে অপরাধী, মাদকাসক্ত এবং মানসিক রোগীদের বের করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দিচ্ছিল, যা মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই অপরাধী চক্র দমন করতেই যুক্তরাষ্ট্র অভিযান পরিচালনা করছে।
ট্রাম্প বলেন, “এটি কোনো যুদ্ধ নয়। আমরা অপরাধী ও মাদক চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি, যারা আমাদের সীমান্ত ও জনগণের জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে।”
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও জানান, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ভেনেজুয়েলায় কোনো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘ভঙ্গুর’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের আগে দেশটিকে স্থিতিশীল করতে হবে।
ট্রাম্পের ভাষায়, “এখন ভোট দেওয়ার মতো পরিবেশ নেই। আমাদের আগে দেশটিকে ঠিক করতে হবে।” তিনি ইঙ্গিত দেন, ভেনেজুয়েলাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কিছুটা সময় লাগবে।
ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে মার্কিন প্রশাসনের কর্মপরিকল্পনা তদারকির জন্য চার সদস্যের একটি শক্তিশালী টিম গঠন করেছেন ট্রাম্প। এই দলে রয়েছেন—পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
ট্রাম্প বলেন, এই চার কর্মকর্তার প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশেষ দক্ষ এবং তারা সম্মিলিতভাবে ভেনেজুয়েলার সংকট মোকাবিলা করবেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) কারাকাসে এক ঝটিকা অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে চলে গেছে। তবে ট্রাম্পের এই আগ্রাসী নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
একদিকে তিনি ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, অন্যদিকে দেশটিকে মানবিক ও অবকাঠামোগতভাবে পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন।
