ভ্যানচালক জুয়েল ও গার্মেন্টসকর্মী লিলির কাছে যে ওয়াদা করলেন তারেক রহমান

তারেক রহমান রাজধানীর ভাষানটেকে নির্বাচনি জনসভায় সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে স্থানীয় সমস্যা শোনেন এবং সেগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন। ভ্যানচালক, গার্মেন্টসকর্মী ও শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শুনে তিনি পুনর্বাসন, ফ্যামিলি কার্ড এবং কর্মসংস্থানের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেন, যা জনসভায় উপস্থিত মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

জনসভায় ব্যতিক্রমী সংলাপ

ঢাকা-১৭ আসনের ভাষানটেকে আয়োজিত এই নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য শুরু করার আগে মঞ্চ থেকে সাধারণ মানুষকে ডেকে নেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যারা কথা বলবেন তারা যেন এই এলাকার ভোটার হন এবং কোনো দলীয় কর্মী না হন। এই আহ্বানের পর ভ্যানচালক, গার্মেন্টসকর্মী ও শিক্ষার্থীরা মঞ্চে উঠে তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনে এসে শুধু বক্তব্য দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; জনগণের সমস্যার কথা সরাসরি শুনে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়াই আসল কাজ।

ভ্যানচালক জুয়েলের পুনর্বাসন দাবি

মোহাম্মদ জুয়েল নামের এক ভ্যানচালক নিজেকে বেনারসি মাঠ এলাকার বস্তিবাসী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, তিনি প্রায় ৩০ বছর ধরে সেখানে বসবাস করছেন। তার মূল দাবি ছিল বস্তিবাসীদের পুনর্বাসন। তিনি বলেন, এলাকায় বহু খেটে খাওয়া মানুষ থাকলেও নিরাপদ বাসস্থানের অভাব সবচেয়ে বড় সমস্যা।

জুয়েলের বক্তব্যে উপস্থিত জনতার সমর্থন জানতে চাইলে অধিকাংশ মানুষ হাত তুলে একমত প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, এলাকার ভাঙাচোরা অভ্যন্তরীণ সড়ক সংস্কারও জরুরি।

পরিবেশ ও নগর ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গ

এরপর এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হেনা আক্তার ভাষানটেক ও কচুক্ষেত এলাকার পরিবেশগত বৈষম্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ক্যান্টনমেন্ট এলাকার সঙ্গে আশপাশের বসতি এলাকার পরিবেশের পার্থক্য চোখে পড়ে। পুরো এলাকাকে পরিকল্পিত ও পরিচ্ছন্ন করা গেলে নগরের সৌন্দর্য বাড়বে।

তারেক রহমান উপস্থিত জনতার মতামত জানতে চাইলে তারাও এই দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

গার্মেন্টসকর্মী লিলির ফ্যামিলি কার্ড ও চাকরির দাবি

৯৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার ও গার্মেন্টসকর্মী লিলি বেগম বলেন, তারা বস্তিবাসী এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি ফ্যামিলি কার্ডের দাবি জানান, যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা পাওয়া যায়।

এ সময় তারেক রহমান একটি ফ্যামিলি কার্ড প্রদর্শন করে বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে সাধারণ পরিবারের হাতে এমন কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। লিলি আরও বলেন, তাদের এলাকার অনেক শিক্ষিত যুবক চাকরির অভাবে বেকার। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাও জরুরি।

তারেক রহমান বলেন, পুনর্বাসন ও যুবসমাজের কর্মসংস্থানের সংকট শুধু ভাষানটেক নয়, এটি সারা দেশের বাস্তবতা।

প্রতিশ্রুতি ও রাজনৈতিক বার্তা

জনসভায় বক্তব্যের শেষাংশে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, তিনি এই এলাকার সন্তান এবং এখানকার মানুষের সমস্যার সঙ্গে পরিচিত। নির্বাচনে জয়ী হলে এবং সরকার গঠিত হলে স্থানীয় জনগণ যে সমস্যাগুলো তুলে ধরেছেন, সেগুলোর সমাধানে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের সরাসরি সংলাপ ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ তৈরির কৌশল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ এবং নির্বাচনি প্রচারণায় মানবিক বার্তা জোরালো করে।

Source: Based on reporting from original Bangla news coverage

Next Post Previous Post

Advertisement