নির্বাচনি প্রচারে মাইক ব্যবহারে যে সময় বেঁধে দিল ইসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনি প্রচারে মাইক ও শব্দ বর্ধনকারী যন্ত্র ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল দিনে সীমিত সময়ের বাইরে মাইক ব্যবহার করতে পারবে না। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানোই মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে ইসি।

ইসি সূত্র জানায়, বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিনগত রাত ১২টার পর অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচার শুরু হয়েছে। এই প্রচার কার্যক্রম চলবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। তবে প্রচারের সময়সীমা থাকলেও মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে আলাদা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

মাইক ব্যবহারের নির্ধারিত সময়

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো নির্বাচনি এলাকায় মাইক বা শব্দের মাত্রা বর্ধনকারী যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে শুধুমাত্র দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। এই সময়সীমার বাইরে নির্বাচনি প্রচারে মাইক ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

এই নিয়ম নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, তাদের মনোনীত প্রার্থী, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং তাদের পক্ষে প্রচারে অংশ নেওয়া যে কোনো ব্যক্তির জন্য বাধ্যতামূলক বলে জানিয়েছে ইসি। নিয়ম লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী বা দলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

একই সভায় মাইকের সংখ্যায় সীমা

ইসি আরও জানিয়েছে, কোনো নির্বাচনি এলাকায় একক জনসভায় একই সময়ে তিনটির বেশি মাইক্রোফোন বা লাউড স্পিকার ব্যবহার করা যাবে না। এতে করে অতিরিক্ত শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে বলে মনে করছে কমিশন।

তবে সাধারণ প্রচার কার্যক্রমে ব্যবহৃত মাইক বা লাউড স্পিকারের ক্ষেত্রে এই তিনটির সীমা প্রযোজ্য হবে না বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ পথসভা বা সাধারণ ঘোষণার ক্ষেত্রে এই নিয়ম কিছুটা শিথিল থাকবে।

শব্দমাত্রা ৬০ ডেসিবেলের মধ্যে রাখতে হবে

নির্বাচনি প্রচারে ব্যবহৃত মাইক বা শব্দ বর্ধনকারী যন্ত্রের শব্দমাত্রা সর্বোচ্চ ৬০ ডেসিবেলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় রেখে এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত শব্দদূষণ বয়স্ক মানুষ, শিশু ও অসুস্থদের জন্য ক্ষতিকর। নির্বাচনের সময় প্রচারণার নামে অতিরিক্ত শব্দ অনেক এলাকায় জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণে ইসির এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকেই।

পোস্টারবিহীন প্রচারণা এবারই প্রথম

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টার ছাড়া প্রচারণা শুরু হয়েছে। পরিবেশ রক্ষা ও শহরের সৌন্দর্য বজায় রাখার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রার্থীরা ডিজিটাল প্রচার, সভা-সমাবেশ এবং সরাসরি ভোটার যোগাযোগের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের ধারণা, মাইক ব্যবহারের সময় ও শব্দমাত্রা নির্ধারণের ফলে প্রচারণা আরও নিয়ন্ত্রিত ও শৃঙ্খলাপূর্ণ হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় অযথা বিরক্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে এই ধরনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

Source: Based on reporting from national media sources

Next Post Previous Post

Advertisement