ইরানে বিক্ষোভে সমর্থন দিলেন শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা
ঢাকা — শান্তিতে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষানুরাগী মালালা ইউসুফজাই ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, ইরানের মেয়েরা “সম্মানের সাথে জীবন” চাইছে এবং তাদের দাবি ছাড়া বিক্ষোভকে আলাদা করে দেখা যায় না। মালালা সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে এই বার্তাটি দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক বিষয়ের নজরকেও আরও তীক্ষ্ণ করেছে। 0
মালালার প্রতিক্রিয়া: নারীর স্বাধীনতার দাবি
মালালা তাঁর পোস্টে লিখেছেন যে “ইরানের বিক্ষোভ দীর্ঘদিন ধরে মেয়েদের ও নারীদের স্বায়ত্তশাসনের ওপর আরোপিত সীমাবদ্ধতার সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করা যায় না” এবং এটি শুধু শিক্ষা বা পোশাকবিধি নিয়ে নয়, বরং নারীর মৌলিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদার ব্যাপার। তিনি বলেন, “ইরানি মেয়েরা, যাদের মতো বিশ্বজুড়ে মেয়েরা সম্মানের সাথে জীবন চাই,” তাদের এই দাবি আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। 1
তিনি আরও যুক্ত করেছেন যে ইরানের ভবিষ্যৎ “ইরানের মানুষের দ্বারা চালিত হতে হবে” এবং বিশেষ করে এতে “ইরানি নারীদের ও মেয়েদের নেতৃত্ব থাকা উচিত — কোনো বাহ্যিক শক্তি বা দমনাত্মক শাসনের দ্বারা নয়।” মালালার এই মন্তব্যগুলো ইরানে চলতে থাকা বিক্ষোভকে শুধু রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক তিক্ততা হিসেবে নয়, বরং একটি মূল মানবাধিকার ও নারী-সম্পর্কিত ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছে। 2
বিক্ষোভের পটভূমি
ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল গত ডিসেম্বর মাসে অর্থনৈতিক দুর্দশা ও মুদ্রার অবমূল্যায়ন সম্পর্কে সাধারণ জনগণের অসন্তোষ থেকে, কিন্তু দ্রুত তা বড় রাজনৈতিক দাবি ও সরকারের নীতির বিরুদ্ধে একটি ব্যাপক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিভিন্ন শহরে সহিংসতার কারণে শতাধিক নিহতের হিসাব দিচ্ছে এবং হাজারসহবেশি মানুষ আটক হওয়া-আক্রান্ত বলে অভিযোগ উঠেছে। 3
ইরানের সরকারি পক্ষ এই বিক্ষোভকে “বিপথগামী” বা “আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র” বললেও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা দমন-পীড়নের কঠোরতা ও নারীর স্বাধীনতার দাবিকে আন্দোলনের মূল করণে উল্লেখ করছেন। মালালার মত আন্তর্জাতিক অঙ্গনের শক্তিশালী কণ্ঠাধারীরা এই পরিস্থিতিকে মানবাধিকার ও নারী সমানাধিকার সংকট হিসেবে দেখছেন। 4
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
মালালার সমর্থনের পাশাপাশি ইউরোপীয় নেতারা ও মানবাধিকার গ্রুপগুলো ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সহিংস পদক্ষেপ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন এবং ইরানি কর্তৃপক্ষের প্রতি চাপ বাড়ানোর দিকে জোর দিয়েছেন। তেহরান ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে, দাবি করে যে আন্তর্জাতিক সমর্থন “অন্তর্ভুক্ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ” সৃষ্টি করছে। 5
বাংলাদেশের প্রাসঙ্গিকতা
বাংলাদেশসহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোতে নারীর শিক্ষা ও অধিকার সম্পর্কে মালালার বার্তা ইতোমধ্যেই প্রভাব ফেলেছে। ইরানের বিক্ষোভ ও মালালার সমর্থন আন্তর্জাতিক জনজাগরণ, সংগঠন এবং মানবাধিকার বিষয়ে দেশগুলোকে নতুন করে ভাবতে প্ররোচিত করছে, বিশেষ করে যেখানে নারীবাদ ও সমানাধিকার আন্দোলন ক্রমশ দৃঢ় হচ্ছে। মালালার মতো প্রভাবশালী ব্যক্তির সমর্থন এমন সময় এসেছে যখন ইরানসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নারীর অধিকার ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক ও আলোচনা তীব্র হচ্ছে। 6
উপসংহার
শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালার এই সমর্থন শুধু ইরানের বিক্ষোভকে আন্তর্জাতিক এক মানবাধিকার ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেনি, বরং নারীর স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্ন তুলেছে। ভবিষ্যতে এই বিক্ষোভ ও আন্তর্জাতিক সমর্থন কীভাবে ইরানের রাজনৈতিক ও সামাজিক গঠনকে বদলে দেবে, তা আন্তর্জাতিক মনোযোগের একটি বড় কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
