হাঁস আমার চাষ করা ধানই খাবে : রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের নির্বাচনী মাঠে ভোট সুরক্ষা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়ে সরব হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির বহিষ্কৃত নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, ভোটকেন্দ্র পাহারা দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে—তার নির্বাচনী প্রতীক ‘হাঁস’ যেন তার নিজের চাষ করা ধানই খায়। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি ভোট লুট ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর ইউনিয়নের মলাইশ গ্রামে আয়োজিত এক পথসভায় রুমিন ফারহানা এসব কথা বলেন। স্থানীয় ভোটার ও দলীয় সমর্থকদের উপস্থিতিতে দেওয়া তার বক্তব্যে ভোটাধিকার রক্ষা ও নাগরিক অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ভোট সুরক্ষা ও প্রতীকের ব্যাখ্যা

পথসভায় রুমিন ফারহানা বলেন, কেউ যেন একটি জাল ভোটও দিতে না পারে, সেজন্য ভোটারদের নিজ নিজ কেন্দ্রে সজাগ থাকতে হবে। তিনি প্রতীকী ভাষায় বলেন, “কোনো শিয়াল যেন একটা হাঁসও চুরি না করতে পারে।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘হাঁস’ কোনো দল বা গোষ্ঠীর প্রতীক নয়; এটি সাধারণ মানুষের এবং জনতার প্রতীক।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, এই প্রতীক অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর এবং সংসদের ৩০০ সদস্যের বিপরীতে একা লড়াই করার সাহসের প্রতীক। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে প্রতীকের ব্যবহার করে ভোটারদের সঙ্গে আবেগী ও বাস্তব সংযোগ তৈরি করাই তার বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ইঙ্গিত

রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে গত দেড় দশকের রাজনৈতিক বাস্তবতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “গত ১৫ বছর হাল চাষ করে, বীজ দিয়ে ধান লাগিয়েছি; কিন্তু ফসল কাটার সময় সবই মরুভূমি।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক সংগ্রামের অভিজ্ঞতা এবং কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার হতাশার কথা ইঙ্গিতপূর্ণভাবে প্রকাশ করেন।

তার মতে, এবারের নির্বাচনে সেই পরিশ্রমের ফল ঘরে তোলার সময় এসেছে। তাই তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার প্রতীক হাঁসই তার চাষ করা ধান খাবে—অর্থাৎ ভোটের ফল যেন অন্য কেউ দখল করতে না পারে।

উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে রুমিন ফারহানা জানান, নির্বাচিত হলে আগামী পাঁচ বছরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুইটি উপজেলাকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তার। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নের কথা বলেন তিনি।

তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন একটি দিন কষ্ট করে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থেকে নিজের ভোট ও কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার অনুরোধ জানান। তার মতে, গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে ভোটারদের এই সামান্য ত্যাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রুমিন ফারহানার এই প্রচারাভিযান স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দলীয় রাজনীতির বাইরে দাঁড়িয়ে ভোটাধিকার ও স্বচ্ছ নির্বাচনের কথা বলায় তার বক্তব্য সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটকেন্দ্র পাহারার এই আহ্বান নির্বাচনী পরিবেশে নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।

Source: Based on reporting from NTV Online.

Next Post Previous Post

Advertisement