জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে কল্যাণকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব : জামায়াত আমির
দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভাজনের প্রেক্ষাপটে জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ঐক্যবদ্ধ জাতি ছাড়া কল্যাণকর ও কার্যকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। মতের পার্থক্য গণতান্ত্রিক সমাজে স্বাভাবিক হলেও, সেই পার্থক্য যদি বিভক্তিতে রূপ নেয়, তাহলে রাষ্ট্র পরিচালনা ব্যাহত হয়। তাই ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে ঐক্য ধরে রেখে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফ্রেন্ডস ক্লাবের বার্ষিক গেট-টুগেদার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
কল্যাণকর রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হিসেবে ঐক্য
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি দেশকে সত্যিকার অর্থে কল্যাণকর রাষ্ট্রে রূপ দিতে হলে জাতিকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিভক্ত জাতি দিয়ে কখনোই সুষ্ঠু ও কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না। তার মতে, রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা আদর্শিক ভিন্নতা থাকলেও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সবাইকে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছে। দেশ নতুন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে জাতির ভেতরের বিভাজন দূর করে ঐক্যের শক্তিকে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
মতপার্থক্য বনাম বিভক্তি
জামায়াত আমির তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, মতের ভিন্নতা কখনোই সমস্যা নয়। বরং ভিন্ন মত থেকেই নতুন সমাধান ও ইতিবাচক পথের জন্ম হতে পারে। তবে সেই ভিন্নতা যেন শত্রুতা বা বিদ্বেষে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তার ভাষায়, “কোনো বিভক্ত জাতি কখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না।” তিনি রাজনৈতিক সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।
রাষ্ট্র পরিচালনায় জাতীয় স্বার্থের অগ্রাধিকার
রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দলীয় বা ব্যক্তিগত স্বার্থকে জাতীয় স্বার্থের ওপরে রাখলে রাষ্ট্র দুর্বল হয়ে পড়ে। একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়তে হলে নীতি-নৈতিকতা, ন্যায়বিচার এবং ইনসাফকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
তিনি মনে করেন, বিভক্ত রাজনীতি ও সংকীর্ণ স্বার্থচিন্তা দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্য গড়ে তোলাই সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বক্তব্যের তাৎপর্য
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সামনে জাতীয় নির্বাচন ও চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে জাতীয় ঐক্যের ডাক রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভাজন কাটিয়ে উঠতে পারলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতাও বাড়বে।
উপসংহার
সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, রাষ্ট্র, সমাজ ও প্রতিষ্ঠান—সব জায়গায় ঐক্যের মনোভাব ধারণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমেই একটি ন্যায়ভিত্তিক, কল্যাণকর ও কার্যকর রাষ্ট্র গড়া সম্ভব—এটাই তার বক্তব্যের মূল বার্তা।
Source: Based on reporting from Dhaka Post
