এবার জামায়াত জোটে যুক্ত হলো লেবার পার্টি

রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে—জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে লেবার পার্টি। শনিবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান নিজে উপস্থিত থেকে জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর ফলে জামায়াত-এনসিপি নেতৃত্বাধীন জোটটি আবারও ১১ দলে পরিণত হলো।

যদিও এই জোটে যোগ দিলেও আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে লেবার পার্টি কোনো আসন পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে জামায়াত। তবুও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জোটের প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে দলটি।

লেবার পার্টির ভূমিকা ও অবস্থান

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান জানান, তিনি নিজে নির্বাচনে অংশ নেবেন না। তবে দলীয় নেতাকর্মীরা জোটের পক্ষে প্রচার ও সাংগঠনিক কাজে যুক্ত থাকবেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, লেবার পার্টির ১৫ জন প্রার্থী নিজ নিজ উদ্যোগে নির্বাচনে অংশ নেবেন, আর বাকি ২৮৫ আসনে দলটির নেতাকর্মীরা জামায়াত জোটের প্রার্থীদের সমর্থনে কাজ করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে ইরান জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ডা. শফিকুর রহমানের মধ্যে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের নেতৃত্বগুণের প্রতিফলন দেখা যায়। তার মতে, দেশের মানুষ একজন মানবিক ও আদর্শবাদী নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছে, যা জামায়াতের বর্তমান নেতৃত্বের মধ্যেই প্রতিফলিত হচ্ছে।

জোট রাজনীতির পটভূমি

গত সেপ্টেম্বর মাসে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ আটটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনী সমঝোতার ঘোষণা দেয়। পরবর্তীতে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়ের ঠিক দুই দিন আগে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং এবি পার্টি এই জোটে যুক্ত হয়। একই সময়ে বিএনপির জোটে প্রত্যাশিত সংখ্যক আসন না পাওয়া লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেয়।

এই যোগ-বিয়োগের মধ্য দিয়ে একপর্যায়ে জোটটি ১১ দলে উন্নীত হলেও আসন বণ্টন নিয়ে মতবিরোধের কারণে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে সরে দাঁড়ায়। ফলে জোটটি আবার ১০ দলে নেমে আসে। সর্বশেষ লেবার পার্টির অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে জোটটি পুনরায় ১১ দলে বিস্তৃত হলো।

বিএনপি ছাড়ার কারণ ও রাজনৈতিক বার্তা

লেবার পার্টি প্রায় ১৩ বছর ধরে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে ছিল। তবে আসন্ন নির্বাচনে দলটিকে কোনো আসন না দেওয়ায় ক্ষোভ তৈরি হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এই ক্ষোভ থেকেই তারা বিএনপির জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সমালোচনা করে মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গীদের আচরণে তিনি ক্রমশ ফ্যাসিবাদী প্রবণতার ছাপ দেখতে পাচ্ছেন। তার মতে, রাজনৈতিক আচরণ ও সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েই এসব প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লেবার পার্টির এই সিদ্ধান্ত আসন্ন নির্বাচনে বড় ধরনের ভোট সমীকরণ না বদলালেও জোট রাজনীতিতে একটি প্রতীকী বার্তা দিচ্ছে। বিএনপি জোট থেকে ছোট দলগুলোর সরে যাওয়া এবং জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়া বিরোধী রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি ও প্রচারণায় এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা এ টি এম মাছুম এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ উভয় দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Source: Based on reporting from a national Bangladeshi news outlet.

Next Post Previous Post

Advertisement