বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সবচেয়ে বেশি শান্তিতে থাকবে নারীরা : দুলু
নাটোর-২ নির্বাচন, বিএনপি নারী অধিকার, মহিলা দল, জাতীয় সংসদ নির্বাচন—বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর–২ (সদর ও নলডাঙ্গা) আসনের দলীয় মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের নারীরা সবচেয়ে বেশি শান্তি ও নিরাপত্তার পরিবেশ পাবে। তিনি দাবি করেন, নারী সমাজের মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন ও অতীত অভিজ্ঞতা কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।
বুধবার বিকেলে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার পিপরুল ইউনিয়নের মদনহাট পাবনা পাড়ায় মহিলা দলের উদ্যোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় স্থানীয় নারী নেত্রী ও বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
নারী নেতৃত্বে বিএনপির ঐতিহাসিক ভূমিকার দাবি
অ্যাডভোকেট দুলু বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তাঁর নেতৃত্বেই রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নারীদের গুরুত্ব স্বীকৃতি পেয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে বেগম খালেদা জিয়া প্রথমবারের মতো নারী ও শিশুদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন করেন, যা নারীর ক্ষমতায়ন ও শিশু সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল।
দুলুর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সময় নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক অংশগ্রহণে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ দৃশ্যমানভাবে বেড়েছিল। তিনি বলেন, “বিএনপি সব সময় নারী সমাজের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নির্বাচনী অঙ্গীকার
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, বিএনপি আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে নারীদের নিরাপত্তা, সম্মান ও অধিকার আরও সুদৃঢ় করা হবে। কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা এবং আইনি সুরক্ষার ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নারী ভোটারদের আস্থা অর্জনে এই ধরনের বক্তব্য নির্বাচনী কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় নারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় সভা ভোটারদের কাছে বার্তা পৌঁছাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ
মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার তাসনুভা তাবাসসুম রাত্রী, জেলা বিএনপির সদস্য শহিদুল্লাহ সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সম্পাদক রাসেল আহম্মেদ রনি এবং ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম। তাঁরা বলেন, নারী সমাজকে সঙ্গে নিয়েই গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও নির্বাচনী প্রচার জোরদার করা হবে।
এ ছাড়া পিপরুল ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হুমায়ন শিকদার, পিপরুল ইউনিয়ন মহিলা দলের নির্বাচন কমিটির সভাপতি রাশিদা সুলতানা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
ভোটারদের প্রতি আহ্বান
সভা শেষে বক্তারা নারী ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, তাদের ভোটই ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে। নারী সমাজের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, নাটোর–২ আসনে নির্বাচনী প্রচার ক্রমেই গতি পাচ্ছে। নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ এই আসনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
Source: Based on local reporting
