দেশে ১৭ বছর পর লন্ডন থেকে একজন মুফতি এসেছেন: মিলন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ার মধ্যেই লন্ডন থেকে আগত এক মুফতির বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর লন্ডন থেকে দেশে আসা ওই মুফতি মুসলমানদের ‘কুফরি’ আখ্যা দিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা-১৫ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত এক জনসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মিলন এসব কথা বলেন। সমাবেশে জামায়াতের আমিরসহ দল ও জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মুফতির বক্তব্য নিয়ে আপত্তি

মিলন বলেন, “আমাদের দেশে ১৭ বছর পরে লন্ডন থেকে একজন মুফতি এসেছেন। তিনি আমাদের মুসলমানদের কুফরি আখ্যা দিচ্ছেন।” তার দাবি, এ ধরনের বক্তব্য ধর্মীয় বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনা না করে বিদেশ থেকে এসে এমন মন্তব্য করা দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ। ধর্মের নামে বিভাজন সৃষ্টি হলে সমাজে অস্থিরতা বাড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার আহ্বান

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জামায়াত নেতা মিলন রাজনৈতিক বক্তব্যও দেন। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি “নতুন বাংলাদেশ” গড়তে চায়, যেখানে বিদেশি প্রভাব বা আশীর্বাদের রাজনীতি থাকবে না। তার ভাষায়, “যে রাজনীতিবিদরা ভারতের আশীর্বাদ নিয়ে দেশ শাসন করতে চায়, এমন শাসন আমরা চাই না।”

তার মতে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য একটি স্বাধীন ও নৈতিক রাজনীতি প্রয়োজন, যা জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে সমালোচনা করে মিলন বলেন, আজকের রাজনীতিতে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি যেন একই অর্থ বহন করছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা শহর ও গ্রামে চাঁদাবাজিতে জড়িত রয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

“উপরে রাজনৈতিক খোলস, ভেতরে চাঁদাবাজি”—এভাবে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েই জামায়াত একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চায়।

নারী কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ

নির্বাচনি পরিবেশ প্রসঙ্গে মিলন অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় নারী কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে এবং আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ থাকলে আইনগত পথে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এজন্য প্রতিটি আসনে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত আছেন।

তিনি আরও বলেন, “ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই যারা নারীদের বোরকা ধরে টানাটানি করে এবং বিরোধী কর্মীদের ওপর হামলা করে, তারা ক্ষমতায় গেলে নারীদের অবস্থা কী হবে—তা দেশবাসী ভালোভাবেই বুঝতে পারছে।”

নির্বাচনি প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। নির্বাচন ঘিরে দলটির পক্ষ থেকে দুর্নীতি, বিদেশি প্রভাব এবং সহিংস রাজনীতির বিরুদ্ধে বার্তা জোরালোভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধরনের বক্তব্য ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ ও নিজস্ব অবস্থান স্পষ্ট করার কৌশলের অংশ। তবে এসব বক্তব্যের বাস্তব প্রভাব নির্বাচনের মাঠে কীভাবে পড়বে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Source: Based on reporting from national media sources

Next Post Previous Post

Advertisement