আমরা দুর্নীতি করব না, কাউকে করতেও দেব না

দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ ময়দানে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনি জনসভায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দল ক্ষমতায় গেলে নিজেরা দুর্নীতি করবে না এবং কাউকেও দুর্নীতিতে জড়াতে দেবে না। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি বন্ধের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

জেলা পর্যায়ের ১০ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে আয়োজিত এই জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি রাজনৈতিক পরিবর্তন, সুশাসন এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে নিজের দলের অবস্থান তুলে ধরেন।

গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক বার্তা

ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, গণআন্দোলনের মধ্য দিয়েই দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিবর্তন এসেছে। তার মতে, এই প্রেক্ষাপট তৈরি না হলে আজ প্রকাশ্যে মত প্রকাশের সুযোগ তৈরি হতো না। তিনি বলেন, সেই ত্যাগের মূল্য দিতে হলে দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই একটি জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে জামায়াতে ইসলামী এগোতে চায়।

দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও বিচার ব্যবস্থার প্রসঙ্গ

জামায়াত আমিরের বক্তব্যে দুর্নীতির পাশাপাশি অবৈধ অর্থ পাচার ও বিচার ব্যবস্থার প্রসঙ্গ উঠে আসে। তিনি বলেন, দেশের অর্থ লুট করে বিদেশে সম্পদ গড়ে তোলার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। যারা অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাৎ করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনার কথা বলেন তিনি।

তার মতে, এমন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে যাতে অর্থের প্রভাব খাটিয়ে কেউ বিচার থেকে রেহাই না পায়।

দিনাজপুরকেন্দ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা

ডা. শফিকুর রহমান দিনাজপুর অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, দেশের খাদ্য উৎপাদনে এই জেলার বড় অবদান রয়েছে। তিনি কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান এবং আলু ও লিচুর মতো কৃষিপণ্যের জন্য সংরক্ষণাগার স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন।

এছাড়া দিনাজপুরকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রস্তাবও তার বক্তব্যে উঠে আসে, যা স্থানীয় উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নিরাপত্তা

স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপনের মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তার বক্তব্যে আসে একটি সহিংসতামুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার। তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চান যেখানে মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারবে এবং অস্ত্রের প্রভাব থাকবে না।

নারী ও সামাজিক নিরাপত্তা

নারীদের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সমাজে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। তার মতে, কর্মক্ষেত্র ও ঘর—দুই জায়গাতেই নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তিনি একটি মানবিক ও আলোকিত সমাজ গঠনের কথা উল্লেখ করেন।

সমাবেশে অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের পাশাপাশি ১০ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মসূচি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জেলা দিনাজপুরে এই ধরনের বড় জনসভা নির্বাচনি রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে এবং বিভিন্ন দলের অবস্থান স্পষ্ট করছে।

Source: Based on reporting from Amar Desh Online

Next Post Previous Post

Advertisement