জুলাই হত্যা মামলা থেকে বিএনপি প্রার্থীকে অব্যাহতি
হত্যা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পেলেন বিএনপি প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলাম
নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ–কবিরহাট ও সদর আংশিক) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলাম-কে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের হওয়া জুলাই হত্যাকাণ্ডের একটি মামলা থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. উবাইদুল করিম আকন্দ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আদালতের আদেশ
তিনি বলেন, মোহাম্মদপুর থানায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর দায়ের হওয়া হত্যা মামলার (নম্বর–৫৮) তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারক আসামি মো. ফখরুল ইসলামকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছেন। এ বিষয়ে আদেশের কপি সরবরাহ করা হয়েছে।
আদেশের কপিতে বলা হয়, ‘আসামি মো. ফখরুল ইসলাম বিএনপি সমর্থিত একজন রাজনীতিবিদ। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত একজন প্রার্থী। উক্ত আসামি ঘটনার তারিখ ও সময়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার কোনো প্রমাণ তদন্ত কর্মকর্তা পাননি।’
আরও বলা হয়, ‘গত ২৮ ডিসেম্বর তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা সাময়িক অব্যাহতিপত্র আদালতে গৃহীত হয়। অত্র মামলার দায় থেকে আসামি মো. ফখরুল ইসলামকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করা হলো।’
মামলার পটভূমি
জানা যায়, কুষ্টিয়ার কুমারখালীর মো. হেলাল উদ্দিনের ছেলে মো. সোহানুর রহমান সিফাত বাদী হয়ে ৩৭৯ জনকে আসামি করে আদালতে একটি হত্যা মামলার আবেদন করেন। আদালত অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে রুজু করতে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় আলমগীর শেখ নামে একজন জুলাই যোদ্ধা গুলিতে নিহত হন। ওই মামলায় বিএনপি নেতা মো. ফখরুল ইসলামকে ২৯৭ নম্বর আসামি করা হয়।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে এবং দ্বিতীয় আসামি করা হয় ওই দলের পলাতক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে।
প্রতিক্রিয়া
উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদের পক্ষে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া বিএনপি নেতা মো. ফখরুল ইসলামকে হত্যা মামলায় আসামি করায় নোয়াখালী-৫ আসনের বিএনপি নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
পাশাপাশি এ ঘটনার প্রতিবাদে নোয়াখালী জেলা বিএনপির উদ্যোগে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
