মুজিব কোট আয়রন করে তুলে রেখেছি, এবার ধানের শীষে ভোট দেবো’

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় বিএনপি আয়োজিত একটি দোয়া মাহফিলে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক কর্মী প্রকাশ্যে জানান, তিনি এবার বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষে ভোট দেবেন। বক্তব্যটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি দলীয় শিষ্টাচার ও রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

দোয়া মাহফিল ও ভাইরাল বক্তব্য

ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রূপাপাত এলাকায়। বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্য দেন কাজী আতিয়ার রহমান রবি। তিনি বোয়ালমারী উপজেলার কদমী গ্রামের বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

প্রায় এক মিনিট ১৮ সেকেন্ডের বক্তব্যে তিনি বলেন, তাঁর ঘরে এখনো ‘মুজিব কোট’ আছে এবং তা আয়রন করে তুলে রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলালে তিনি আগের দলে ফিরতেও পারেন—এমন মন্তব্যও করেন। তবে বর্তমান বাস্তবতায় ভোট দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে জানান, এবার তিনি ধানের শীষে ভোট দেবেন।

বক্তব্যের পেছনের ব্যাখ্যা

দোয়া মাহফিলে তিনি আরও বলেন, আগে বোয়ালমারীর ময়রার মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার হাত ধরে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন এলাকায় কার্যত আওয়ামী লীগের সংগঠিত উপস্থিতি নেই। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পর তিনি মনে করেন, গ্রামে যারা আছেন তাদের একসাথেই থাকতে হবে এবং ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকা কোনো সমাধান নয়।

এই বক্তব্যের সময় মঞ্চে উপস্থিত অতিথিদের অনেকে এবং দর্শকসারিতে থাকা বিএনপি কর্মীদের একটি অংশ হাসাহাসি করেন, যা ভিডিওতে স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতারা

ওই দোয়া মাহফিলে ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের স্ত্রী আনজুমান বানুসহ উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন কাজী আতিয়ার রহমান রবি নিজেই এবং সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান।

বিতর্কের পর প্রতিক্রিয়া

বক্তব্যটি ভাইরাল হওয়ার পর কাজী আতিয়ার রহমান রবি নিজেও প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টি নতুন নয়। তবে জনসম্মুখে যেভাবে কথাগুলো বলেছেন, সেটি ঠিক হয়নি বলে এখন মনে করছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সহ-কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, বক্তব্যটি প্রকাশ পাওয়ার পর বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন আসছে এবং বিষয়টি কিছুটা বিব্রতকর হয়ে উঠেছে। তিনি জানান, কাজী আতিয়ার রহমান রবি বিএনপির কোনো পদধারী নেতা নন; তিনি স্থানীয়ভাবে একজন সম্মানিত মুরব্বি হিসেবেই ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়েছিলেন।

রাজনৈতিক বাস্তবতা ও স্থানীয় প্রভাব

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও দলীয় পুনর্বিন্যাসের প্রতিফলন। ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে দেওয়া এমন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় দলগুলোর জন্যও বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।

রাজনৈতিক পরিবেশ যতই পরিবর্তিত হোক, প্রকাশ্য মঞ্চে দেওয়া বক্তব্যের প্রভাব যে ব্যক্তি ও দল—উভয়ের ক্ষেত্রেই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, এই ঘটনাই তার একটি উদাহরণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Source: Based on reporting from Dhaka Post

Next Post Previous Post

Advertisement